ক্রাইম জাতীয় সংবাদ

কাস্টমস’র সহকারী কমিশনার সাহিদুল ইসলাম এত সম্পদ কোথায় পেলেন ?

Written by CrimeSearchBD

তিনি আলাদীনের যাদুর চেরাগ পাননি। তবে বাংলাদেশ কাস্টমসে চাকুরীর বদলে পেয়েগেছেন টাকার মেশিন। আর সেই মেশিনের সাহায্যে বনে গেছেন কোটি -কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক। দুদকের নজর এড়াতে সম্পদগুলো করেছেন দুই স্ত্রী,সন্তান ও শ্যালক,শ্যালিকার নামে। এখন তিনি সরকারী চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে অষ্ট্রেলিয়া পাড়ি জমাবার স্বপ্ন দেখছেন। দুই স্ত্রীর নামে চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট ,ছেলের নামে মাছের ঘের, কার্টুন ফ্যাক্টরী, ২ খানা দামি গাড়ি, ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করা ছাড়াও শ্যালিকার নামে অস্ট্রেলিয়ায় টাকা পাচার করেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়াগেছে।

সৌভাগ্যবান এই কাস্টমস কর্মকর্তার নাম মো: সাহিদুল ইসলাম। পিতা মৃত-কওছার উদ্দিন বিশ্বাস। মাতা-রমিজা খাতুন। সাং- দরিমিঠাপুর। থানা-লোহাগাড়া। জেলা- নড়াইল। বর্তমান ঠিকানা: বাসা নং ৬/৭, ইকবাল রোড, থানা-মোহাম্মদপুর। জেলা: ঢাকা। বর্তমান কর্মস্থল: সহকারী কমিশনার ,প্রধান কার্যালয় । তার প্রথম ¯ত্রীর নাম: মিসেস লুনা বেগম। বাসা: বাসা নং ৬/৭, ইকবাল রোড, থানা-মোহাম্মদপুর। জেলা: ঢাকা। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম: মুস্তারী জাহান। পিতা- মাকছুদুর রহমান। মাতা- রুনা লায়লা, সাং-ধনঞ্জয়পাড়া, থানা-লালপুর, জেলা: নাটোর। বর্তমান বাসা: হাউস নং ৪৪,রোড নং-০৭,ব্লক-বি,বনশ্রী,রামপুরা,ঢাকা। এক ছেলে মালেশিয়ায় লেখাপড়া করতো। আরেক ছেলে ক্যাডেট কলেজে পড়তো। তৃতীয় ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তারা সকলেই মাদকাসক্ত।
তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুসন্ধানে জানাগেছে, তিনি চাকুরী জীবনে যে স্টেশনেই চাকুরী করেছেন সেই স্টেশনেই রাজস্ব আত্মসাৎ করে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। তার কর্ম এলাকার বিভিন্ন কল-কারখানা ও ইন্ডাষ্ট্রিজ মালিকদের হাতে হাত মিলিয়ে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দেবার কলাকৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি নিয়েছেন মোটা অংকের কমিশন। এতেকরে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হলেও তিনি হয়েছেন লাভবান। আর অবৈধপথে উপার্জিত সেসব অর্থে তিনি নিজ এলাকায় কিনেছেন শত একর জমি। সেসব জমিতে ছেলের নামে মাছের ঘের তৈরী করেছেন। আরেক ছেলের নামে পেপার কার্টুন তৈরীর অটো কারখানা (ফ্যাক্টরী) স্থাপন করে দিয়েছেন ।
আরো জানাগেছে,তিনি তার দ্বিতীয় ¯ত্রী মুস্তারী জাহানের নামে রামপুরা বনশ্রীতে একটি চাইনিজ রেস্তুরা ও একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এই ফ্ল্যাট ও চাইনিজ রেস্তুরার মুল্য কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা । রেস্তুরার নাম ও ঠিকানা: Marshmallow Cafe & Playzone’s । হাউস নং ৪৪,রোড নং-০৭, ব্লক-বি,বনশ্রী, রামপুরা,ঢাকা।
এছাড়া নিজ এলাকা নড়াইলের লোহাগাড়ায় ছেলের নামে শত বিঘা জমির ওপর একটি মাছের ঘের করেছেন যার মুল্য মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা।। আরেক ছেলের নামে পেপার কার্টুন তৈরী করার অটো কারখানা স্থাপন করে দিয়েছেন । যার মূল্য কমপক্ষে কোটি টাকা। তিনি দুই স্ত্রীকে ২ খানা লেটেষ্ট মডেলের গাড়ী কিনে দিয়েছেন । যার মূল্য: ৭০ লক্ষ টাকা কাছাকাছি। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে ও মেয়ে অক্সফোর্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া করে। তাদের পেছনে প্রতিমাসে খরচ হয় ৪৫ হাজার টাকা। দুই সংসারে প্রতিমাসে খরচ হয় কমপক্ষে ৪ লক্ষ টাকা । অথচ-তিনি বেতন পান সর্বসাকুল্যে ৬৫ হাজার টাকা। প্রশ্ন হলো: তাহলে তিনি এই পরিমান টাকা কোথায় পান?

সুত্রগুলোর আরো দাবী, তিনি কালো টাকা সাদা করার জন্য তার অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী শ্যালিকার কাছে নিয়মিত টাকা পাচার করেন। এ পর্যন্ত প্রায় শত কোটি টাকা পাচার করেছেন। ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাবার লক্ষ্যে তিনি টাকা পাচার অব্যাহত রেখেছেন। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাই মাহফুজুর রহমান সিয়ামের নামেও বিভিন্ন বেসরকারী ব্যাংকে টাকা ডিপোজিট করে রেখেছেন।
প্রশ্ন হলো ,মাত্র ৬৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে দুটি সংসার চালানোর পরও তিনি এত টাকা ও সম্পদ কোন পথে অর্জন করলেন?

আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট ও মাদক বাণিজ্য!
অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, রাজউকের বিধি বিধান বা বিল্ডিং কোড আইন ভংগ করে হাউস নং ৪৪,রোড নং-০৭,ব্লক-বি,(২য়তলা)বনশ্রী,রামপুরা,ঢাকা। আবাসিক ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন কাস্টম্স সুপারেন্টেন্ড মো: সাহিদুল ইসলাম। এক্ষেত্রে তিনি রাজউক থেকে কোন প্রকার অনুমোদন গ্রহন করেন নি। এমনকি এই চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা বেচাকেনা হলেও তিনি সরকারকে সে পরিমাণ ভ্যাট -ট্যাক্স প্রদান করেন না। নিজে একজন রাজস্ব কর্মকর্তা হয়েও অবলীলায় তার স্ত্রীর নামিয় রেষ্টুরেন্টে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে গুরুতর অপরাধ করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে কেউ প্রশ্ন করলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মুস্তারী জাহান দম্ভোক্তি করে বলেন, “কাকে ভ্যাট দেব? আমার স্বামীইতো ভ্যাট কালেক্ট কর্মকর্তা”। এ ছাড়া তার এই রেষ্টুরেন্টে সুরক্ষিত পরিবেশে ইয়াবা ,ফেন্সিডিল ,বিদেশী মদ,বিয়ার ও শিশা জাতীয় নেশা বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
আবাসিক ভবনে কিভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চলছে এ প্রশ্নের জবাবে রাজউকের সংশ্লিষ্ট জোনের অথোরাইজ অফিসার বলেন, এ বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। এখন যখন আমরা বিষয়টি জানতে পারলাম তখন অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
আরো জানাগেছে, কাস্টমস সুপার মো: সাহিদুল ইসলাম প্রায়ই তার দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন রিসোর্ট এ প্রমোদ ভ্রমণে যান। সেখানে ২/৩ দিন অবস্থান করে ভোগ বিলাস করেন। ফেরার সময় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিল চাইলে তিনি কার ইচ্ছা খুশি মত অতি সামন্য বিল প্রদান করেন। এ নিয়ে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ইচ্চ বাচ্চ্য করলে তিনি নিজেকে ‘কাস্টমস কমিশনার’ পরিচয় দিয়ে রিসোর্টকে ভ্যাট ফাঁকির মামলা দেবার হুমকি দেন। তার এরুপ আচরণে কাস্টমস বিভাগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

মো: সাহিদুল হক যা বললেন
এসব বিষয়ে আত্মপক্ষ বক্তব্যের সুযোগ দিলে সহকারী কমিশনার মো: সাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার কোন অবৈধ সম্পদ নেই। যেগুলো বললেন তা আমার স্ত্রী ও শ্যালকদের সম্পদ। আমি কোন দুর্নীতি করি না। ঢাকায় আমার কোন ফ্ল্যাট বাড়ী নেই। আমি ভাড়া বাসায় থাকি। নড়াইলে আমার কিছু পৈত্রিক সম্পত্তি আছে। স্ত্রীরা যে গাড়ি ব্যবহার করে তা আমার শ্বশুররা গিফট দিয়েছেন।

দুদক ও রাজউকের পদক্ষেপ কামনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কারণে সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যাচ্ছে। দেশের রাজস্ব আহরণ খাতে কোন প্রকার দুর্নীতি হলে দেশ রক্তশুন্যতার শিকার হয়। দেশের মেরুদন্ড ভেংগে যায়। এটি একটি গরহিত অপরাধ। এ বিষয়টি অবশ্যয় গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান,দুদক চেয়ারম্যান,রাজউক চেয়ারম্যান ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: