ক্রাইম সারাদেশ

নারী সঙ্গীকে নিয়ে ইয়াবা সেবনে ব্যস্ত পুলিশের এক কর্মকর্তা

Written by CrimeSearchBD

পুলিশের চাকরিকে বলা হয় বদলীর চাকরী৷ এখানে এক থানা, শহর বা রেঞ্জে কোন পুলিশ সদস্যেরই স্থায়ী পদায়ন না হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও সম্প্রতি অনেক পুলিশ সদস্যের ঘুরে ফিরে দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কিংবা চট্টগ্রামে থাকার রেকর্ড নজিরবিহীন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অনেকেই বছরের পর বছর সিএমপি বা চট্টগ্রামে রেঞ্জের এক থানা থেকে অন্য থানায় বদলী করিয়ে নিচ্ছে৷ আর দীর্ঘদিন এভাবে বহাল থাকার কারণ অনুসন্ধান করলে বেশীর ভাগের বিরুদ্ধেই নানান অপকর্মে জড়ানোর তথ্য মিলেছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক পুলিশ সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে অজ্ঞাত এক নারীকে ইয়াবা সেবনে সহায়তা করতে দেখা গেছে৷ একইসাথে টিনের তৈরী একটি ঘরে বসে পুলিশ সদস্য মানিক সহ অন্যান্যদের ইয়াবা সেবনের চিত্রটি মাদকসেবীদেরই কেউ গোপনে ধারণ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এটি কবেকার ভিডিও সেই বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি৷ আর অভিযুক্ত মানিক চন্দ্রের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে৷
জানা গেছে মানিক চন্দ্র রক্ষিত নামের সেই পুলিশ সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালীতে দ্বায়িত্বরত আছে৷ তথ্য বলছে মানিক চন্দ্র ইতিপূর্বে সিএমপি’র চাঁন্দিগাও, কোতোয়ালী, পাঁচলাইশ, বন্দর থানা ও গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন৷ এছাড়াও চট্টগ্রাম রেঞ্জ মিলিয়ে মানিক চন্দ্র যুগ পার করে দিয়েছেন৷ মূলত থানা পুলিশের কথিত ক্যাশিয়ারের দ্বায়িত্ব পালনের সুবাদে থানার বড় কর্তা থেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আশীর্বাদ বরাবরই পেয়েছে মানিক চন্দ্র৷ ফলে নানান অভিযোগের পাহাড় জমলেও মানিক চন্দ্রকে আশপাশের এক থানা থেকে অন্য থানায় বদলী করেই রেহায় দেয়া হয়েছে৷ আর এসব আশ্র‍য় প্রশ্রয়ে ফুলেফেঁপে উঠে মানিক চন্দ্র আজ মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম জোগান দাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শুরুতে থানায় উদ্ধার হওয়া মাদকের একাংশ খুচরা মাদক বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতো মানিক চন্দ্র সহ এক শ্রেণীর অসাধু পুলিশ সদস্য৷ এক সময় এসব পুলিশ সদস্যরা আইন শৃংখলা বাহিনীর পোষাকের আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে৷ বাড়তে থাকে মাদক সরবরাহের পরিমাণ৷ যেমনটা হদিস মিলেছিলো বাকলিয়া থানার এস আই খন্দকার সাইফ উদ্দিনের ভাড়া বাসা থেকে৷ র‍্যাবের অভিযানে বাকলিয়া থানার তুলাতুলি এলাকায় সেই পুলিশ অফিসারের বাসায় মিলেছিলো ১৪ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের।
মানিক চন্দ্র রক্ষিতের বিষয়ে বাঁশখালী থানার ওসি শফিউল কবির গতানুগতিক বক্তব্যই দিয়েছেন গণমাধ্যমে৷ তিনি বলেছেন, কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে৷
পরিসংখ্যান বলছে ২০২০ সালে এক বছরেই চট্টগ্রামে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হওয়ায় চাকরিচ্যুতসহ শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন অন্তত ৫০ সদস্য। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে চাকরি হারিয়েছেন ১০ জন আর গুরুদণ্ড পেয়েছেন আরও ৪০ সদস্য। তবে এসব অপরাধে জড়িতদের পুলিশের কনস্টেবল থেকে সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার অফিসাররাই সীমাবদ্ধ। শাস্তি প্রাপ্তদের কেউ-ই সিনিয়র পদের নেই৷ অথচ এসকল জুনিয়র পুলিশ সদস্যদের পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন ওসি থেকে ডিসি পদমর্যাদার অফিসাররাই৷
এদিকে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আলোচিত পুলিশ সদস্য মানিক চন্দ্র রক্ষিতকে ক্লোজ করে জেলা পুলিশ লাইনে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানিয়েছেন, মানিককে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবং ইতিমধ্যে মানিকের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগুলো তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

About the author

CrimeSearchBD