জাতীয় সংবাদ

বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ও সাধারণ শয্যা খালি নেই

Written by CrimeSearchBD

চট্টগ্রাম নগরীতে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় করোনা শনাক্তের হার কমলেও জেলার গ্রামাঞ্চলে কমছে না। নগরীতে শনাক্তের হারের চেয়ে জেলার গ্রামাঞ্চলে শনাক্তের হার আড়াই গুণ বেশি। মৃত্যুর হারও নগরীর চেয়ে গ্রামাঞ্চলে দ্বিগুণ। সর্বশেষ গত ১৩ দিনে করোনায় চট্টগ্রামে মোট মৃত্যুর ৭২.৬০ শতাংশ গ্রামে।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক। সেই সঙ্গে নগরী ও জেলার হাসপাতালগুলোতে গ্রামের রোগী ভর্তি বেড়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউয়ের পাশাপাশি সাধারণ শয্যাও খালি নেই। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থাকলেও সাধারণ শয্যা খালি ২৫ শতাংশ।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ পাওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের ৫৪টি শয্যার মধ্যে বর্তমানে ৫৮ জন করোনা রোগী ভর্তি আছে। ১০টি আইসিইউয়ের সব কটিতে রোগী ভর্তি আছে। শয্যা খালি না থাকায় বর্তমানে ভর্তির জন্য অপেক্ষায় আছে ১০ জন রোগী। শয্যা খালি হলেই অপেক্ষারত ব্যক্তিদের ভর্তি করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু আমাদের এখানে নয়, নগরীর বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আইসিইউসহ সাধারণ শয্যা খালি নেই। আজকে (গতকাল) এই বিষয়টি মন্ত্রী, সচিবসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় আলোচনা হয়েছে। শয্যা আরো বাড়াতে হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৬ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত করোনা শনাক্ত বেড়েছে পাঁচ হাজার ৭৫৯ জনের। এর মধ্যে নগরীতে তিন হাজার ৯৮৫ জন, জেলায় এক হাজার ৭৭৪ জন। এ সময়ে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে নগরীতে ১৫ হাজার ৬৮৬টি ও জেলায় তিন হাজার ৪৩৪টি। ১৩ দিনে নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে নগরীতে শনাক্তের হার ২৫.৪০ শতাংশ, জেলায় ৫১.৬৬ শতাংশ। এই ১৩ দিনে চট্টগ্রামে করোনায় মারা যাওয়া ৭৩ জনের মধ্যে নগরীতে ২০ জন এবং জেলায় ৫৩ জন মারা গেছে। নগরীতে মৃত্যুহার ২৭.৪ শতাংশ এবং জেলায় ৭২.৬০ শতাংশ।

গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে পাঁচ লাখ আট হাজার ৪১৪টি। এর মধ্যে নগরীতে চার লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১টি এবং জেলায় ৫৩ হাজার ৭৩৩টি। এর মধ্যে নগরীতে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬২ হাজার ৯১৩ জনের এবং জেলায় ১৪ হাজার ১৪১ জনের।

গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭৪৪ জন। এর মধ্যে নগরীতে ৪৮৬ জন এবং জেলায় ২৫৮ জন। শনাক্ত অনুপাতে নগরীতে মৃত্যুহার ০.৯৯ শতাংশ এবং জেলায় ১.৮২ শতাংশ। নগরীর চেয়ে জেলায় মৃত্যুহার প্রায় দ্বিগুণ।

সরকারি হাসপাতালের মধ্যে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি শয্যা রয়েছে চমেক হাসপাতালে। ২০৬ শয্যার রেড জোনে (করোনা রোগী) গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৬২ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। এ ছাড়া ইয়েলো জোনে ভর্তি ছিল আরো ৬৫ জন রোগী। ইয়েলো জোনে গতকালও বেশি ছিল নারী রোগী (৩৫ জন)।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৌমেন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগরীর চেয়ে বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের রোগী বেশি হাসপাতালে। নগরীতে টিকা দেওয়ার হার বেশি থাকায় আক্রান্তের হার কিছুটা কমেছে।’

আইসিইউ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালে এখন করোনা আইসিইউ ও এইচডিইউ খালি নেই।’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৪০টি শয্যার মধ্যে ৯৭ জন ভর্তি আছে জানিয়ে করোনা ওয়ার্ডের প্রধান ডা. আবদুর রব বলেন, ‘আইসিইউয়ের ১৮টি শয্যায় ১৮ জন চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে গ্রামের রোগী বেশি। গত এপ্রিলে যেখানে ২০ শতাংশের মতো ভর্তি হয়েছিল, সেখানে এখন ৪০ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ‘গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা কম। উপসর্গ থাকলেও অনেকে পরীক্ষা করছে না। অবস্থা বেশি খারাপ হলে তার পর হাসপাতালে আসায় অনেককে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

বেসরকারি পর্যায়ে আইসিইউসহ সাধারণ শয্যা বেশি রয়েছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে। এই হাসপাতালের পরিচালক ডা. নুরুল হক বলেন, ‘১৬টি আইসিইউসহ ১৪০টি করোনা শয্যার মধ্যে এখন ১৩৯ জন আছে। আইসিইউ খালি নেই। রোগী বেশি আসতে থাকায় আমরা শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. বখতিয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের ৫০টি শয্যার মধ্যে এখন ৩৬ জন ভর্তি আছে।’

চট্টগ্রামে তিনটি সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় শয্যা আছে ৩৯৬টি। এর মধ্যে ২৯৫ জন ভর্তি আছে, যা মোট শয্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ।

About the author

CrimeSearchBD