ক্রাইম রাজধানী

কদমতলী থানা পুলিশ কর্তৃক অপহরণ করে হত্যা করে লাশ গুম মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার।

Written by CrimeSearchBD

কদমতলীতে আবারো পরকীয়া প্রেমের বলি হলেন নাছরিন আক্তার। নাছরিন আক্তারের বয়স ৩৬ ও তিনি ছিলেন তালাকপ্রাপ্তা। অত্র মামলার বাদী মোসাঃ আয়েশা বেগম থানায় হাজির হয়ে জানান যে, বাদীর মেয়ে মোসাঃ নাছরিন আক্তার এর গত ১৬ বৎসর পূর্বে সৌদি আরব প্রবাসী জনৈক বাহাদুর ভূঁইয়া’র সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর তাদের ঔরষে একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। যার নাম নাবিলা আফরিন। বাদীর মেয়ে নাছরিন আক্তার ও বাদীর নাতনী নাবিলা কদমতলী থানাধীন শনির আখড়া দনিয়া গোয়াল বাড়ী মোড়ের ২য় তলায় ভাড়া বাসায় থাকতো। বাদীর মেয়ে তালাক প্রাপ্ত হওয়ার পর হতে শেয়ার ব্যবসা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। গত ইং ১৮/৫/২০২১ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ০৭:৩০ ঘটিকার সময় আমার মেয়ে কদমতলী থানাধীন শনির আখড়া গোয়াল বাড়ী মোড় তার নিজ বাসা হতে রাস্তায় বের হয় কিন্তু আর বাসায় ফেরৎ আসে নাই। আমরা নাছরিনকে বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে অদ্যবধি খুঁজে পায় না মর্মে উক্ত মামলার বাদিনী এজাহার দাখিল করলে সূত্রোক্ত মামলা রুজু হয়। এতদসংক্রান্তে বাদী এজাহার দায়ের করলে কদমতলী থানার মামলা নং-৭২ তাং-২৪/০৬/২০২১ ইং, ধারাঃ- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৭/৩০ রুজু করা হয়।
উক্ত মামলাটি রুজু হওয়ার পর এস আই/ মোঃ লালবুর রহমান এর উপর মামলার তদন্তভার অর্পণ করা হয়। তিনি মামলাটি তদন্তাকালীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগীয়তায় মামলার ঘটনাস্থল এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরা পঙ্খানু পঙ্খানু ভাবে পর্যালোচনা করে, সিডিআর পর্যালোচনা করে এবং সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ও ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির সর্বত্তোম ব্যবহারের মাধ্যমে তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ ধৃত আসামী ১। আব্দুল হাই (৫২) ২। মোঃ রানা দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত ধৃত ০১ নং আসামী আব্দুল হাই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোন এ ঘটনার দিন ১৯:০১ মিনিটের সময় ফোন দিলে ভিকটিম শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে বাসা হতে বের হলে উক্ত ধৃত আব্দুল হাই ও রানার সহায়তায় ভিকটিমকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে সু-কৌশলে অপহরণ করে আসামীদ্বয় পরস্পর যোগসাজসে ভিকটিমকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন ব্রীজ এলাকায় নিয়ে ভিকটিমের গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ব্রীজের উপর হতে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। অতঃপর কাঞ্চন ব্রীজ সংলগ্ন রূপগঞ্জ থানাসহ পাশ্ববর্তী থানা এলাকা গুলোতে কোন অজ্ঞাতনামা লাশ সংক্রান্তে তথ্য সংগ্রহ কালে জানতে পারা যায় যে, ইং ২১/৬/২০২১ তারিখ নৌ-পুলিশ শীতলক্ষা নদী হতে একটি অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহ পেয়ে রূপগঞ্জ থানায় সংবাদ দিলে গত ২১/০৫/২০২১ তারিখ ভিকটিম পাওয়া সংক্রান্তে এএসআই (নিরস্ত্র) অনীল বিহারী নাথ, ইছাপুর নৌ পুুলিশ ফাঁড়ী, রূপগঞ্জ থানা, নারায়নগঞ্জ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করলে রূপগঞ্জ থানার মামলা নং-৩১ তাং-২১/৫/২০২১ইং, ধারাঃ-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। উক্ত মামলার তদন্তকারীর কর্মকর্তার নিকট হতে অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশের ছবি ও তার ব্যবহৃত ঘড়ি, ব্রেসলেট ও আংটির ছবি সংগ্রহ করে অত্র মামলার বাদিনী ও ভিকটিমের মেয়ে নাবিলা ভিকটিমের মৃতদেহ সনাক্ত করেন। আব্দুল হাইয়ের সাথে ২০১৫ সাল হতে ভিকটিম নাসরিনের পরোকিয়া প্রেম থাকায় পরবর্তীতে ভিকটিম নাসরিন অন্যত্র পরোকিয়ায় আসক্ত হওয়ায় আব্দুল হাই তা মেনে নিতে না পারায় উক্ত আসামীদ্বয় ভিকটিমকে সু-কৌশলে অপহরন করে বর্ণিত ঘটনা ঘটিয়েছে মর্মে ইং ০১/৭/২০২১ তারিখ বিজ্ঞ আদালতেও স্বেচ্ছায় জবানবন্দি প্রদান করে। যার ফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বাদীসহ এলাকার লোকজনের পুলিশ বাহিনীর উপর আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

About the author

CrimeSearchBD