অর্থনীতি

করোনার টিকায় মোটা অঙ্কের বরাদ্দ ও বিশেষ তহবিল

Written by CrimeSearchBD

আগামীকাল তৃতীয়বারের মতো স্বস্তির বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কেউ যেন অসন্তুষ্ট না হয় সে উপকরণে সাজানো হয়েছে আগামী অর্থবছরের বাজেট। তবে এটিই হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট। আর ঘাটতি পূরণ করার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা এবং বিদেশি তহবিল থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে।
করোনাকালের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বাজেটে মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে সুরক্ষার জন্য ভ্যাকসিন কিনতে বাজেটে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। শুধু টিকা কেনার জন্য আলাদা ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি টিকার জন্য আরও একটি আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যার পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়াও টিকা কেনার জন্য বিদেশি সংস্থা বিশেষ সহায়তা দেওয়ার আশ^াস দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্য খাতে চলতি বছরের তুলনায় আগামী বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটে প্রায় ৩৩ হাজার ২৭৪ কোটি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ আগামী বাজেটে মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে অর্থের কমতি থাকছে না। করোনাকালে হাসপাতালের সরঞ্জাম কিনতে পিছপা থাকছে না সরকার। একই সঙ্গে সুরক্ষার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সে উদ্যোগ নিতে সবই থাকছে আগামী বাজেটে।

জীবিকার বিষয়ে আগামী বাজেটে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপণ্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য চাল-ডাল থেকে শুরু করে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর তেমন কোনো শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে না। এমনকি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্যের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক হচ্ছে না।
করোনাকালে কৃষির গুরুত্ব বিবেচনা করে কৃষিযন্ত্রসহ বিভিন্ন উপকরণের জন্য কোনো ধরনের নতুন করে শুল্ক বসছে না। এমনকি দেশীয় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের ওপর করের কোনো বোঝা চাপানো হচ্ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর অবকাশের সুবিধা থাকছে। তবে যেসব পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সেসব পণ্যের ওপর বাড়তি কর বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিড়ি, সিগারেট ও তামাক জাতীয় পণ্য উল্লেখযোগ্য।
পানির অন্য নাম জীবন। সে কথা স্মরণ রেখে বোতলজাত পানির ওপর তেমন কোনো নতুন কর বসছে না। এমনকি রোগীদের জন্য হাসপাতালে সরবরাহ করা পাউরুটির ওপরও কোনো ধরনের কর বসছে না। অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ বিনিয়োগের অপার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এই বিনিয়োগের কারণ সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের পথ সৃষ্টি করা।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা উপকারভোগীদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়েও বাজেটে ইতিবাচক বেশ কিছু বিষয় সংযোজন হচ্ছে। যেসব প্রবাসী বিদেশে বসে দেশে অর্থ পাঠান তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে আগামী বাজেটে। অর্থাৎ প্রবাসী আয়ের বিপরীতে প্রণোদনা ১ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। অর্থাৎ আগামী বাজেটে ৩ শতাংশ হতে পারে। এর জন্য প্রায় ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হবে। চলতি অর্থবছরে এই ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ভর্তুকির ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থান থাকবে কৃষির। এরপরই থাকছে বিদ্যুৎ খাত।
ইতিহাসের বড় ঘাটতি বাজেট হচ্ছে আগামী বাজেট। যার পরিমাণ ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত ও বৈদেশিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রেখেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে জোগান দেওয়া হবে ৭৬ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ ৯৭ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৮ কোটি টাকা।
রাজস্ব বোর্ড আয়ের ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এর মধ্যে করের জাল বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে। যারা করের আওতায় আসার পরও রিটার্ন দাখিল করবেন না, তাদের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

About the author

CrimeSearchBD