ক্রাইম

নারী পাচারে প্রতি ধাপেই ব্যবহার হয় নতুন ফোন ও সিম

Written by CrimeSearchBD

সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি এক মেয়েকে পাচারের ঘটনায় তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপের সন্ধান পাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত মিলছে নিত্যনতুন তথ্য। মগবাজারের টিকটক হৃদয় ছাড়াও দেশের সাতক্ষীরা ও যশোরকেন্দ্রিক একাধিক পাচারকারী চক্রের সন্ধান মিলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে। অন্যদিকে পাচারকারীরা খুবই ধূর্ত। ফলে তারা নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে নিম্নমানের ফোন ব্যবহার করত। আবার সরাসরি কলে কোনো কথা বলত না। পাচার সংক্রান্ত সব কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন অজানা অ্যাপসের মাধ্যমে চালাত বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়াও ভারতে বাংলাদেশি মেয়েকে পাচারের ঘটনায় সেখানে গ্রেফতার হওয়া টিকটক হৃদয়কে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে পাচারের পর উদ্ধারকৃত মেয়েটিকে এখন পুলিশ হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা চলছে।
কিশোরগঞ্জের এক মেয়েকে প্রেমের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে চাকরির কথা বলে ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাচার করা হয়। এরপর সেখানে নিয়ে টিকটক হৃদয় পাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দেয়। সেই মেয়েকে নিপীড়নের ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হলে তোলপাড় হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত হৃদয় ও তার আরও দুই সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে হৃদয়ের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলার সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। টিকটক হৃদয়ের সঙ্গে ঢাকার বাইরের আরও কয়েকটি চক্রের সন্ধান মিলেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতে বাংলাদেশি মেয়েকে পাচারের ঘটনায় তদন্তে নেমে একাধিক চক্রের সন্ধান পেয়েছেন তারা। দেশের যশোর ও সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় এসব পাচারকারী চক্র সক্রিয়। তাদের মধ্যে ছোট-বড় আরও কয়েক ভাগে বিভক্ত রয়েছে। এসব চক্র নারীদের পাচার করছে। এই পাচারে শুধু বাংলাদেশি নাগরিক নয়, ভারতীয় একাধিক নাগরিকের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের অংশে বকুল ও ভারতীয় অংশে সবুজ নামের দুজনের নাম এসেছে। এ ছাড়াও আরও ব্যক্তির নাম এসেছে এই তদন্তে। পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছেন তারা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাচারকারীরা নামিদামি কোনো ফোন ব্যবহার করত না। মাত্র ৬০০-৭০০ টাকা দামের ফোনগুলোয় সিম ভরে কথা বলা হলে তা ফেলে দেওয়া হতো। পাচার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কথার বাইরে আর কোনো কথা বলত না। এভাবে পাচারের প্রতিটি ধাপে একটি করে ফোন ও সিম ব্যবহার করত পাচারকারীরা। তবে সিমগুলো কাদের নামে ওঠানো হতো এবং কারা ব্যবহার করত তা জানার চেষ্টা চলছে। এসব সিমের সূত্র ধরে একাধিক চক্রের সন্ধান মিলেছে। নিম্নমানের ফোনের পাশাপাশি পাচারকারীরা একাধিক অজানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপসও ব্যবহার করত। সেসব অ্যাপসের ব্যাপারেও জানার চেষ্টা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় এই পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বাস। তারা মূলত ভারতীয় চক্রের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ করে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে চুক্তিতে লোক নিয়ে তারা নারী সংগ্রহ করত। এরপর সেই লোকেরাই সীমান্তে নারীদের পৌঁছে দিত। এই পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুবকদের সংশ্লিষ্টতাই বেশি মিলছে এবং যেসব মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ২৫ এর মধ্যে। এসব নারীকে ভারতে নিয়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হতো।
গত বছর দুবাইয়ের বারে ড্যান্সের কথা বলে নারী পাচারের ঘটনা আলোচনায় আসে। সেই বার সিআইডি নারায়ণগঞ্জ থেকে মূল হোতা আজম খানকে গ্রেফতার করে। তবে এই ঘটনায় তার দুই ভাই নাজিম ও এরশাদ বিদেশে পলাতক রয়েছে। এরপরও বন্ধ হয়নি সেই নারী পাচার। এখন ভিন্ন কৌশলে সক্রিয় পাচারকারীরা।
তেজগাঁও জোনের ডিসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আমরা হৃদয় ছাড়াও একাধিক পাচারকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছি। সেসব নিয়ে কাজ চলছে। আমরা টিকটক হৃদয়কে ভারত থেকে দেশে ফেরত আনার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের সব কাজ শুরু করেছি। সেখানে পাচার হওয়া মেয়েটিকে উদ্ধার করেছে সে দেশের পুলিশ। তারা তাকে তাদের হেফাজতে রেখেছে ও চিকিৎসা দিচ্ছে।

About the author

CrimeSearchBD