সারাদেশ

নগরের ঝুঁকিপূর্ণ সব মার্কেট ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ

Written by CrimeSearchBD

দুই দিনের দফায় দফায় ভূমিকম্পে আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে সিলেটের জনমনে। বিশেষ করে এক দিনে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে চারবার ভূ-কম্পনের ফলে আতঙ্কের ছায়া লেগেছে সর্বত্র। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরাও সিলেটে ভূমিকম্প নিয়ে সতর্কতার বাণী শুনিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে সচেতন হতেও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে সিলেট নগরের ঝুঁকিপূর্ণ সব মার্কেট আগামী ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। দুদিন ধরে দফায় দফায় ভূমিকম্পের পর এ নির্দেশনা দিল সিসিক। এ ছাড়া একই সময়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য ভবনের বাসিন্দাদেরও অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে।

রোববার বিকালে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মহানগরের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এ নির্দেশনা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, রবি ও শনিবার কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলে অভিহিত সিলেটে। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে সিলেটে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অভিযানে নামল সিলেট সিটি করপোরেশন।
ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের আগামী ১০ দিন মার্কেট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান মেয়র আরিফ। এ সময় তিনি জানান, সিলেট মহানগরে দফায় দফায় ভূমিকম্পের কারণে সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ সব মার্কেট কমপক্ষে ১০ দিন বন্ধ রাখতে হবে।
মেয়র জানান, মহানগরীর জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানসন, রাজা ম্যানসন ও বন্দরবাজারের সিটি সুপার এবং মধুবন সুপার মার্কেট আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত। এভাবে সিলেট নগরীর সব ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবনের কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিন বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে। এ ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ বাসাবাড়ির বাসিন্দাদেরও আগামী ১০ দিন অন্যত্র থাকতে হবে।
অন্যদিকে রোববার কয়েকটি মার্কেটে অভিযান শেষে সিসিক মেয়র আরিফের নেতৃত্বে সিসিক ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল মহানগরীর পাঠানটুলায় যান। ভূমিকম্পের কারণে সেখানকার হেলে পড়া দুটি ৬ তলা বাসা পরিদর্শন করেন তারা। বাসাগুলো পরিদর্শন শেষে ভবন দুটির বাসিন্দাদেরও আগামী ১০ দিনের জন্য অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
প্রসঙ্গত সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভবনগুলো হলো, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উত্তর পাশের কালেক্টরেট ভবন-৩, জেল রোডস্থ সমবায় ব্যাংক ভবন, একই এলাকায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয় ভবন, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজারস্থ সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারের মিতালী ম্যানসন, দরগাগেইটের হোটেল আজমীর, বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট, টিলাগড় কালাশীলের মান্নান ভিউ, শেখঘাট শুভেচ্ছা-২২৬ নম্বর ভবন, যতরপুরের নবপুষ্প ২৬/এ বাসা, চৌকিদেখির ৫১/৩ সরকার ভবন, জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানসন, পুরান লেনের ৪/এ কিবরিয়া লজ, খারপাড়ার মিতালী-৭৪, মির্জাজাঙ্গাল মেঘনা এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাগবাড়ির একতা ৩৭৭/৭ ওয়ারিছ মঞ্জিল, একই এলাকার একতা ৩৭৭/৮ হোসেইন মঞ্জিল, একতা-৩৭৭/৯ শাহনাজ রিয়াজ ভিলা, বনকলাপাড়া নূরানী-১৪, ধোপাদীঘির দক্ষিণপাড়ের পৌর বিপণি মার্কেট ও ধোপাদীঘিরপাড়ের পৌর শপিং সেন্টার।

About the author

CrimeSearchBD