ক্রাইম

আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে গণধর্ষণ: রিমান্ডে পাঁচ আসামি, ১ জনের স্বীকারোক্তি

Written by CrimeSearchBD

বোনের বাসা থেকে নিজ বাসায় যাওয়ার সময় আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আশুলিয়া-সিঅ্যান্ডবি বাইপাস সড়কের আশুলিয়া গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার এদের মধ্যে ৫ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এক আসামি ধর্ষণের দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেনÑ ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার তারাগুনা এলাকার মৃত আতিয়ারের ছেলে সাজু (২০), বগুড়া জেলার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে সুমন (২৪), নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার ধামঘর এলাকার জহুর উদ্দিনের ছেলে মনোয়ার (২৪), বগুড়া জেলার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোহাগ (২৫), একই জেলার বগুড়া জেলার ধুপচাচিয়া থানার জিয়ানগর গ্রামের সামছুলের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০)। তারা সবাই তুরাগ থানার কামারপারা ভাসমান এলাকায় ভাড়া থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে মিনিবাস চালাত।

ভুক্তভোগী তরুণীর গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট বলে জানা গেছে। তিনি নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বোন মানিকগঞ্জ জেলায় বসবাস করেন। তিনি তার বোনের জন্য একটি মোবাইল ফোন কিনে নিয়ে শুক্রবার তার বোনের বাসা মানিকগঞ্জ যান। সেখান থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে বাসে উঠলে রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে তাকে নামিয়ে দেয়। এ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করলে পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা হয়। রাত ৯টার দিকে নিউগ্রাম বাংলা মিনিবাসের চালক সুমন, হেলপার মনোয়ার ও সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম এসে টঙ্গী স্টেশন রোডের কথা বলে ৩৫ টাকা ভাড়া চায়। পরে সঙ্গীয় একজনকে নিয়ে মিনিবাসে উঠলে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই সব যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বাসে করে নিয়ে আবার নবীনগরে ফিরে আসার সময় বাসের জানালা-দরজা আটকিয়ে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বাসের চালক, হেলপারসহ ৬ জন। ভুক্তভোগীর চিৎকারে টহল পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে বাসটি থামিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ৫ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। সাইফুল নামে একজন পালিয়ে গেলেও রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। রাতেই অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রিমান্ডে পাঁচ আসামি, একজনের স্বীকারোক্তি : তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া সুমন নামের এক আসামি ধর্ষণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক (সিজেএম) আদালতে গ্রেফতার ছয় আসামিকে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি সুমন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শাহজাদী তাহমিদা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
অপরদিকে বাকি আসামিদের মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে একই বিচারক প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলোÑ আরিয়ান, সাজু, সোহাগ, সাইফুল এবং মনোয়ার।

About the author

CrimeSearchBD