ক্রাইম

টিকটকে নারী পাচার

Written by CrimeSearchBD

টিকটকে একই সঙ্গে ভিডিও তৈরির অফার দেওয়া হচ্ছে। এরপর সময় সুযোগ বুঝে সম্পর্ক তৈরি করে ওই তরুণীকে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হচ্ছে। পরে বিদেশে নিয়ে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগী অনেক নারীর পরে আর খোঁজই মিলছে না। এভাবেই একটি মানবপাচারকারী চক্র টিকটকে নারীদের টার্গেট করছে। ভারতে এক বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনা তদন্তে নেমে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের ব্যাপারে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ এসব কথা জানান।
ডিসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, টিকটকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া তরুণ-তরুণীদের নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের একটি গ্রুপ পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। যে গ্রুপের অ্যাডমিন এবং পৃষ্ঠপোষক ওই চক্র। একটি গ্রুপের অ্যাডমিনের তত্ত্বাবধানে গত বছরের শেষদিকে ঢাকার পাশের একটি জেলায় পুলপার্টির আয়োজন করা হয়। ওই পার্টিতে ৭০০ থেকে ৮০০ তরুণ-তরুণী অংশ নেয়। এই গ্রুপ থেকেই নারীদের টার্গেট করে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনে পাচার করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বলেন, ভারতে এ চক্রটির মূল আস্তানা ব্যাঙ্গালুরুর আনন্দপুর এলাকায়। মূলত পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতেই বিভিন্ন বয়সিদের ভারতে পাচার করা হয়। তাদের সঙ্গে সেখানকার স্থানীয় কিছু হোটেলের চুক্তি থাকে। সে অনুযায়ী তারা টাকার বিনিময়ে নারী সরবরাহ করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তে আরও কয়েকজন তরুণীকে পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। ভিকটিমের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

এদিকে ডিএমপি বলছে, টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে তরুণ-তরুণীরা পারস্পরিক পরিচয়ের সূত্র ধরে একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়। এমন কিছু গ্রুপের অ্যাডমিনরাই মূলত আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের সদস্য। যার মাধ্যমে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া বখে যাওয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহিণীদের টার্গেট করে বিদেশে চাকরির প্রলোভনে পাচার করা হয়। তবে ভারতে তরুণী পাচারের ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এই নারী পাচার চক্রটির নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের কিছু এলাকাসহ দুবাই এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে চক্রটির নেটওয়ার্ক রয়েছে। ভারতের এক তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে এ চক্রের মাধ্যমে আরও অনেক তরুণী পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাচার হওয়া তরুণীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের এক তরুণীকে ভারতের কেরালা রাজ্যে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ঢাকা হাতিরঝিলের রিফাদুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নামে এক যুবককে শনাক্ত করে পুলিশ। ভারতে বাংলাদেশি ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেন মেয়ের বাবা। প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ থাকা মেয়েকে ভিডিও দেখে শনাক্ত করে মামলা করেন তিনি। এ ঘটনার পর ভারতে টিকটক হৃদয়সহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

About the author

CrimeSearchBD