খেলাধুলা

আশাতীত অর্জন মিরাজের

Written by CrimeSearchBD

আজন্মের অপেক্ষা ঘুচিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দলের আবহ এখন সুখী পরিবারের মতো। তবে দলের তরুণ অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ যেন একটু বেশিই সুখী। হওয়ারই কথা। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। এর বড় প্রভাব পড়েছে র‌্যাঙ্কিংয়েও। তিন ধাপ এগিয়ে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে বোলারদের তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছেন মিরাজ, এতটা কখনই আশা করেননি এই অফস্পিনার।

লঙ্কানদের বিপক্ষে রোববার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৩০ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩ উইকেট নিয়েছেন ২৮ রান দিয়ে।

তাতেই বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে উঠে এসেছেন, সেটাও ক্যারিয়ারসেরা রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। এই অফস্পিনারের পয়েন্ট এখন ৭২৫। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টের থেকে মাত্র ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে তিনি। তবে একটা জায়গায় মিরাজই এগিয়ে, তার থেকে বেশি রেটিং পয়েন্ট পাননি বাংলাদেশের আর কোনো বোলার।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে উঠেছিলেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। এর আগের বছরই অবশ্য দেশের প্রথম বোলার হিসেবে শীর্ষে ওঠেন সাকিব আল হাসান, ২০০৯ সালের নভেম্বরে তার রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭১৭। সেটাই এতদিন সর্বোচ্চ ছিল। মিরাজ ছাড়িয়ে গেলেন তাকে। এমন অর্জন নাকি অবিশ্বাস্য ঠেকছে এই তরুণের কাছে। নিজেই বললেন, ‘আমি কখনই ভাবিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই নাম্বারে আসব। আসতে পেরে আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর টেস্টেই বেশি সাফল্য পেয়েছেন মিরাজ। অনেকে তাকে টেস্টের বোলার হিসেবেই ভেবে নিয়েছিলেন। তবে তার নিজের ভাবনা ছিল অন্যরকম। বললেন সেই কথাও, ‘যখন আমি শুরু করি, তখন কিন্তু আমি টেস্ট বোলার ছিলাম। তখন আমার ভেতরে কাজ করেছেÑ আমি কেবল টেস্ট খেলব না, সব সংস্করণেই খেলব। চেষ্টা থাকবে, আল্লাহর রহমতে আমি যেন সফলতার সঙ্গে খেলতে পারি। যখন আমি ওয়ানডে ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম, তখন আমার চিন্তা ছিলÑ কীভাবে দলের হয়ে অবদান রাখতে পারি, পারফর্ম করতে পারি।’

কিন্তু সীমিত ওভারের ম্যাচে নিজেকে ঠিক সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না। জায়গাটাও তাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল ৪৯ ওয়ানডেতে ৫৪ উইকেট নেওয়া এই স্পিনারের। মিরাজ জানালেন, দলে জায়গা পাকা করতে উইকেট শিকার নয়, রান চেক দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি, ‘(বুঝতে পেরেছিলাম) এক দিনের ক্রিকেটে খেলতে হলে আমার ইকোনমি ঠিক রাখতে হবে। কারণ, আমি যদি এটা (রান কম দেওয়া) ঠিক রাখি, তা হলে দলে আমার খেলার সুযোগ বেড়ে যাবে। দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী যদি আমি উইকেট এনে দিতে পারি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারি, সেটা আমার নিজের জন্য যেমন ভালো হবে, দলের জন্যও।’

সাম্প্রতিক অতীতে যেভাবে বোলিং করেছেন মিরাজ, তাতে বেশ ভালোভাবেই পূরণ হয়েছে দল আর তার নিজের প্রত্যাশা। র‌্যাঙ্কিংয়ে পড়েছে সেটারই ছাপ। শুধু মিরাজের নয়, বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানেরও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচে সমান তিনটি করে উইকেট নিয়ে আট ধাপ এগিয়ে তিনি উঠে এসেছেন নবম স্থানে।

ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের (দুই ধাপ এগিয়ে ৩৮তম)। দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৮৪ আর ১২৫ রানের ইনিংস খেলা মুশফিক চার ধাপ এগিয়ে এখন ১৪তম। তার রেটিং পয়েন্ট ৭৩৯, এটা কেবল মুশফিকের ক্যারিয়ারসেরা রেটিংই নয়, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যেও সেরা। আগের সর্বোচ্চ ৭৩৭ রেটিং পয়েন্ট ছিল তামিম ইকবালের, ২০১৮ সালে। এদিকে চলমান সিরিজে ব্যাট হাতে ভালো না করলেও বোলিংয়ে আলো ছড়িয়ে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে
যথারীতি শীর্ষে সাকিব।

About the author

CrimeSearchBD