ক্রাইম

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় যুবককে সাত টুকরো

Written by CrimeSearchBD

রাজধানীর দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান। পানিপড়া ও তাবিজের জন্য তার কাছে প্রায়ই যেতেন আজহারুলের স্ত্রী আসমা বেগম। এই সুবাধে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক বছর ধরেই এমন চলছিল। স্বামী আজহারুল বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। সর্বশেষ তার চার বছরের ছেলের মাধ্যমে জানতে পারেন তার স্ত্রী ও ইমাম আব্দুর রহমানের অবৈধ সম্পর্কের কথা। এ নিয়ে ইমামকে বাধা দেওয়ার জন্য যান আজহারুল। ওই সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমাম আব্দুর রহমান আজহারুলকে কুপিয়ে হত্যা করে। গত ১৯ মে এ ঘটনা ঘটে দক্ষিণখানে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় ৭ টুকরো মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজহারুল দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় মাওলানা আব্দুর রহমানকে (৬৫) মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। গ্রেফতারের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি চাকু ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। এলাকাবাসী বলছে, স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় আজহারুলকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করার পর লাশ গুম করতে চেষ্টা করেছিল ইমাম আব্দুর রহমান।
এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরের পর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক মো. আব্দুল মোত্তাকিম জানান, গত কয়েকদিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজহারুল। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু সোমবার রাতে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। এ ছাড়াও মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ দেখে মুসল্লিরা বিষয়টি র‌্যাবকে জানায়। এরপর সে ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ওই মসজিদের ইমামই আজহারুলকে হত্যা করেছে। কথাকাটাকাটির জের ধরে কুপিয়ে হত্যার পর সমজিদের সেপটিক ট্যাঙ্কে লাশ গুম করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে আজহারুলের মৃতদহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক মো. আব্দুল মোস্তাকিম। তিনি জানান, গত শুক্রবার থেকে আজহারুল নিখোঁজ ছিলেন। এই অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এক পর্যায় জানতে পারে এ ঘটনায় ওই মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান জড়িত। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। সেই জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে খুনের ভয়ঙ্কর তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে আব্দুর রহমান জানিয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাওলানা আব্দুর রহমান লাশ তার ঘরে নিয়ে যায় এবং একাই গভীর রাত পর্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে সাত টুকরো করে। লাশের টুকরোগুলো পরে সে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখে।
এদিকে দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ওই জামে মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়া মুসল্লিদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, এক বছর ধরে আজহারুলের স্ত্রীর সঙ্গে ইমামের পরকীয়া চলছিল। আজহারুল বিষয়টি টের পেয়ে পাঁচ মাস আগে বাসা পরিবর্তন করে দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার হাজি মার্কেটের সামনে চলে যান। ১৫-২০ দিন আগে আজহারুলের ছেলে ইমাম আব্দুর রহমান ও আসমাকে মসজিদে একসঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে দেখতে পায় বলে বাবাকে জানায়।
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, ছেলের কাছ থেকে মায়ের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাননি আজহারুল। উল্টো স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তার নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চলে যান। কালিহাতী থেকে ইমামকে ফোন করেন আজহারুল। গত ১৯ মে দক্ষিণখানের সরদারবাড়ির মসজিদে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজহারুল। এরপর মঙ্গলবার মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে আজহারুলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
দক্ষিণখান থানার ওসি (তদন্ত) আজিজুল হক জানান, ভোরে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে আজহারুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, পরকীয়ার বিষয়ে অনেক কিছুই শুনেছি। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু বলতে পারব না।

About the author

CrimeSearchBD