জাতীয় সংবাদ

বাবুল আক্তারের ‘বান্ধবীর’ তথ্য জানতে পিবিআইয়ের চিঠি

Written by CrimeSearchBD

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের বান্ধবী গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে জানতে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কাছে চিঠি দিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
অন্যদিকে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আদালতে মিতু হত্যা মামলায় মোখলেসুর রহমান নামে একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, মামলার এজাহারে বাদী বাবুল আক্তারের বান্ধবীর কথা উল্লেখ করে বলেছেন তার (গায়ত্রী) সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই বাবুল আক্তার কন্ট্রাক্ট মিশনের মাধ্যমে মিতুকে খুন করিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থেই সেই বান্ধবী সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি এখন কোন দেশে কর্মরত এবং তার যোগাযোগের ঠিকানাসহ সব তথ্য পেলে পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে বাবুল আক্তার পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন গায়ত্রী অমর সিং নামে এই নারীর সঙ্গে। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় করা মামলায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন এই অভিযোগ করেন। ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রী সিং জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ফিল্ড অফিসার হিসেবে তখন কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি জেনে যাওয়ার পর বাবুল আক্তারের সঙ্গে স্ত্রী মিতুর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জেরে বাবুল আক্তার তাকে খুনের পরিকল্পনা করেন এবং সহযোগীদের নির্দেশ দিয়ে তাকে খুন করান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে বাবুল আক্তার কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে গায়ত্রী ইউএনএইচসিআরের ফিল্ড অফিসার (প্রটেকশন) হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন। তখন বাবুল আক্তার গায়ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত বাবুল আক্তার সুদানে মিশনে ছিলেন। তখন তার মোবাইল রেখে যান বাসায়। গায়ত্রী ওই মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন সময় ২৯টি মেসেজ পাঠান। মেসেজগুলো মিতু তার ব্যবহৃত একটি খাতায় লিখে রাখেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে বাবুল আক্তার চীনে যান প্রশিক্ষণের জন্য। তখন মিতু বাবুল আক্তারকে গায়ত্রীর উপহার দেওয়া ‘তালিবান’ ও ‘বেস্ট কেপ্ট সিক্রেট’ নামে দুটি বই পান। দুটি বইয়ে বাবুল আক্তার ও গায়ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রথমে বাবুল আক্তারের মোবাইলে গায়ত্রীর মেসেজ পায় আমার মেয়ে। এরপর দুটি বইয়েও নানা কথাবার্তা দেখতে পায়। তখন তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ-অশান্তি চরমে ওঠে। বাবুল তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। মিতু বেশ কয়েকবার আমাদের বিষয়গুলো জানিয়েছিল।’
একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ : মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় আদালতে একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফিউদ্দীনের আদালতে মোখলেসুর রহমান নামে এই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান আদালতের জিআরও শাহীন ভূঁইয়া। এই সাক্ষীর বাড়ি পাবনা জেলায়। তবে তিনি কীভাবে মামলায় সাক্ষী হলেন, কী সাক্ষ্য দিলেন তা জানাতে পারেননি জিআরও।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড়ে নৃশংসভাবে খুন হন। বাসা থেকে সকালে বের হয়ে জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গেলে তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই সময় বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

About the author

CrimeSearchBD