খেলাধুলা

ঘুচল অপেক্ষা আর আক্ষেপ

Written by CrimeSearchBD

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডের তথা বৃষ্টি আইনের পরিহাস বলাই ভালো। বৃষ্টির বাধায় ম্যাচ যখন তৃতীয়বার বন্ধ হলো, ৩৮ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান তখন ৯ উইকেটে ১২৬। এরপর যখন খেলা শুরু হবে, তখন জানা গেল ৪০ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ২৪৫ রান। অর্থাৎ বাকি দুই ওভারে অতিথিদের করতে হতো ১১৯ রান! বিস্ময়করই বটে।

হার নিশ্চিত, তবুও নিয়মরক্ষায় ব্যাট হাতে ফের মাঠে নামলেন শ্রীলঙ্কার শেষ দুই ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশ সারল ম্যাচ জয় আর সিরিজ জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ঘুচল অপেক্ষা আর আক্ষেপ। অতীতে (তিন ফরম্যাট মিলে ২১টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজÑ ১০টি টেস্ট, ৮টি ওয়ানডে আর ৩টি টি-টোয়েন্টি) একাধিকবার সম্ভাবনা জাগিয়েও সেটাকে বাস্তবরূপ দিতে না পারার যে আক্ষেপ বাংলাদেশ দলের ছিল, ২২তম সিরিজে বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে ১০৩ রানের জয়ে সেটা ঘুচে গেল মঙ্গলবার। বিশ^কাপ সুপার লিগে টাইগারদের ঝুলিতে যোগ হলো আরও ১০ পয়েন্ট, বাড়তি পাওয়া হয়ে এলো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থান।

এই কৃতিত্বের সিংহভাগ মুশফিকুর রহিমের প্রাপ্য। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিই চাপে থাকা বাংলাদেশকে এনে দেয় ২৪৬ রানের লড়াকু পুঁজি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান আর অভিষিক্ত শরিফুল ইসলামের অসাধারণ বোলিং ওই পুঁজিটাকেই পাহাড়সম করে তোলে শ্রীলঙ্কার সামনে। টাইগার বোলাররা শুরু থেকেই যেভাবে ছড়ি ঘুরিয়েছেন, তাতে ক্ষণিকের জন্যও মনে হয়নি ম্যাচটা জিততে পারে অতিথিরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে তাদের ১৪১ রানেই আটকে দেয় বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের স্বাদ নেওয়া ম্যাচে টাইগার বোলাররা ছিলেন নির্ভার। তারা কেবল নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে গেছেন। পুঁজি খুব বড় না হওয়ায় জয়োল্লাস করতে যেমন বোলিং প্রয়োজন ছিল, তেমন বোলিংই করে গেছেন মিরাজ-মোস্তাফিজরা। তবে ‘নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পেরেছি’Ñ মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ বাদে দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান কি এই দাবি করতে পারবেন? টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর যে ব্যাটিং প্রদর্শনী টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা দেখিয়েছে, তা ছিল ভীষণ দৃষ্টিকটু।

দুস্মন্ত চামিরার করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই চার বলের ব্যবধানে অধিনায়ক তামিম আর সাকিব লেগবিফোরের ফাঁদে পড়েন। অনেকটা সময় ক্রিজে থাকলেও ২৫ রানের বেশি করতে পারেননি দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া আরেক ওপেনার লিটন দাস। প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন নিজেকে প্রমাণে ব্যর্থ। লেগস্টাম্পের বাইরের বলে অহেতুক ব্যাট চালিয়ে হলেন কটবিহাইন্ড। ৭৪ রানেই চার উইকেট নেই, বাংলাদেশ তখন ঘোর বিপাকে।

তামিম-সাকিবের বিদায় দ্বিতীয় ওভারেই ব্যাট হাতে মাঠে নামা মুশফিক অনবদ্য ব্যাটিংয়ে সেই বিপাক থেকেই টেনে তোলেন দলকে। তবে নির্ভার থেকে ব্যাট চালাতে পারেননি তিনি। প্রবল চাপ সামলেই মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন। আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এদিনও দারুণ খেলছিলেন মাহমুদউল্লাহ, যেভাবে ধনঞ্জয়াকে দুটো ছক্কা হাঁকালেন, তাতে আরও বড় কিছুর আশাই জেগেছিল। কিন্তু ৫৮ বলে ৪১ রান করে লক্ষ্মণ সান্দাকানকে নিজের উইকেটটি উপহার দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এরপর দ্রুত সাজঘরে ফেরেন আফিফ হোসেন আর মেহেদী হাসান মিরাজ। চাপ খানিকটা কমতে না কমতেই আবার চাপে মুশফিক। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে আবার লড়াই শুরু করেন, এগিয়ে নিতে থাকেন রানের চাকা। এরপর দুবার বৃষ্টি এসে বাঁধ সাধল, তবে মুশফিক ছিলেন অবিচল। সাইফউদ্দিন, শরিফুল আর মোস্তাফিজকে সঙ্গী করে দলকে আড়াইশর কাছে নিয়ে যান তিনি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১২৭ বলে ১০টি চারের মারে খেলেন ১২৫ রানের অনিন্দ্যসুন্দর এক ইনিংস। ওয়ানডেতে এটি তার অষ্টম সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে তার থেকে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল তামিম (১৩টি) আর সাকিবের (৯টি)।
রানআউট হয়ে ফেরার আগে মুশফিকের সঙ্গে ৪৮ রানের জুটিতে সাইফউদ্দিনের অবদান ছিল ১১। রানআউট হওয়ার সময় চোট পেয়ে হাসপাতালেও ছুটতে হয়েছে তাকে। ম্যাচে আর নামা হয়নি তার, কনকাশন বদলি হিসেবে খেলেছেন তাসকিন আহমেদ। কোনো উইকেট না পেলেও ডানহাতি এই পেসার এদিন ছিলেন বেশ মিতব্যয়ী। গতি আর বাউন্সে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের বারবার ভড়কে দিয়েছেন অভিষিক্ত পেসার শরিফুল। প্রতিপক্ষ দলপতি কুশাল পেরেরাকে তামিমের ক্যাচ বানিয়ে তিনিই প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন। তিনটি করে উইকেট নেওয়া মিরাজ আর মোস্তাফিজ তো বল হাতে ছিলেন অসাধারণ।
অসাধারণ বলতে হবে ঘরের মাঠে টানা পঞ্চম ওয়ানডে জয় আর দ্বিতীয় সিরিজ জয়টাকেও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৪৮.১ ওভারে ২৪৬ (তামিম ১৩, লিটন ২৫, সাকিব ০, মুশফিক ১২৫, মোসাদ্দেক ১০, মাহমুদউল্লাহ ৪১, আফিফ ১০, মিরাজ ০, সাইফউদ্দিন ১১, শরিফুল ০, মোস্তাফিজ ০*; উদানা ২/৪৯, চামিরা ৩/৪৪, হাসারাঙ্গা ১/৩৩, সান্দাকান ৩/৫৪)
শ্রীলঙ্কা : ৪০ ওভারে (লক্ষ্য ২৪৫) ১৪১/৯ (গুনাথিলাকা ২৪, পেরেরা ১৪, নিশাঙ্কা ২০, মেন্ডিস ১৫, ধনঞ্জয়া ১০, বান্দারা ১৫,শানাকা ১১, হাসারাঙ্গা ৬, উদানা ১৮*, সান্দাকান ৪, চামিরা ৪*; মিরাজ ৩/২৮, শরিফুল ১/৩০, মোস্তাফিজ ৩/১৬, সাকিব ২/৩৮)
ফল : বাংলাদেশ ১০৩ রানে জয়ী (ডি/এল)
ম্যাচসেরা : মুশফিকুর রহিম

About the author

CrimeSearchBD