ক্রাইম

পল্লবীতে সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ড : আউয়ালসহ তিনজন রিমান্ডে

Written by CrimeSearchBD

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু সন্তানের সামনে সাহিনুদ্দীন (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যায় জড়িত সাবেক এমপি আউয়ালের ভাড়াটে কিলারদের একজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। তার নাম মানিক (৩২)। বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র‍্যাব-৪-এর একটি দলের সঙ্গে গোলাগুলিতে মারা যায় মানিক। সে মামলার পাঁচ নম্বর আসামি ছিল।
এদিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সাবেক এমপি আউয়ালসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডে যাওয়া অন্য দুজন হলোÑ নূর মোহাম্মদ হাসান (১৯) ও জহিরুল ইসলাম বাবু ওরফে লাবু (২৭)। এর আগে গত ১৬ মে পল্লবীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিশু সন্তানের সামনে সাহিনুদ্দিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪-এর একটি টহল টিম সন্ত্রাসীদের ধরতে ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় যায়। তখন টহল টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ করে গুলি ছুড়লে র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে সেখানে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পরে থাকতে দেখে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দুজন পালিয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করা যায়নি।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নিহত ব্যক্তির নাম মানিক। পল্লবীতে সাহিনুদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যাকারীদের একজন মানিক। পুলিশ এসে নিহত মানিককে পল্লবীর হত্যা মামলার আসামি হিসেবে শনাক্ত করে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
৪ দিনের রিমান্ডে আউয়াল : এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান আসামি এমএ আউয়ালসহ গ্রেফতার তিনজনকে সাহিনুদ্দিন হত্যা মামলার তদন্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। পরে শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন আসামি এমএ আউয়ালসহ অন্যদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসির আদালত আউয়ালসহ তিনজনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আউয়ালের সঙ্গে রিমান্ডে যাওয়া অন্য দুজন হলোÑ নূর মোহাম্মদ হাসান ও জহিরুল ইসলাম বাবু ওরফে লাবু। এদের মধ্যে লাবু মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, শুক্রবার এমএ আউয়ালসহ অন্যদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে আসামিদের রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন তার আইনজীবী আব্দুল বাতেন। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে পল্লবী থানাধীন ডি-ব্লকের ১২ নম্বর সেকশনের ৩১ নম্বর সড়কে একটি গ্যারেজের ভেতরে জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আকলিমা বেগম সাবেক এমপি আউয়ালসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ ও ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। এর মধ্যে র‌্যাব এমএ আউয়ালসহ তিনজনকে, থানা পুলিশ দুজনকে ও ডিবি দুজনকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে বন্দুকযুদ্ধে একজন মারা গেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আউয়াল তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব। তিনি বর্তমানে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ও হাভেলি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

About the author

CrimeSearchBD