খেলাধুলা

পুরো ৩০ পয়েন্ট চাই তামিমের

Written by CrimeSearchBD

সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আসবেন অধিনায়ক, জানাবেন দলের পরিকল্পনা, সার্বিক অবস্থা আর সিরিজ নিয়ে প্রত্যাশার কথাÑ ক্রিকেটে এটাই রীতি। এবার সেখানে কিছুটা ব্যতিক্রম তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজটি যেখানে রোববার শুরু হচ্ছে, টাইগার দলপতি সেখানে শনিবারের বদলে শুক্রবারই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনটা সেরে ফেললেন। সেখানেই জানালেন, ২০২৩ বিশ^কাপে সরাসরি অংশগ্রহণের পথে এগিয়ে যেতে তিন ওয়ানডের এই সিরিজ থেকে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট চান তিনি।

সিরিজটি আইসিসির ওয়ানডে সুপার লিগের অংশ, যেটি মূলত ২০২৩ সালে ভারতে হতে যাওয়া ৫০ ওভারের বিশ^কাপের বাছাই। এই সুপার লিগে প্রতিটি দল আটটি করে সিরিজ খেলবে, প্রতিটি সিরিজে থাকবে তিনটি করে ম্যাচ। সেই ম্যাচগুলো শেষে পয়েন্ট টেবিলে থাকা সেরা আট দল সরাসরি বিশ^কাপে খেলার টিকেট পাবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দুটি সিরিজ খেলে ফেলেছে। সবশেষ সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছে তারা। এর আগে অবশ্য ঘরের মাঠে প্রথম সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একই ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেটারই পুনরাবৃত্তি চাইছেন তামিম।

দুই সিরিজে ছয় ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩০ পয়েন্ট। সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে তারা এখন ষষ্ঠ স্থানে। এমতাবস্থায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে তামিমের কাছে। তা ছাড়া সদ্য এই দলটির কাছেই দুই টেস্টের সিরিজ হেরে এসেছে টাইগাররা। ২০১৯ বিশ^কাপের পর তামিমের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কায় খেলতে গিয়েও তিন ওয়ানডের সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছিল তারা। এর আগের বছর ঘরের মাঠে খেলা ওয়ানডে সিরিজেও লঙ্কানদের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ, সবকিছু মিলিয়েই আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজটা স্বাগতিকদের জন্য প্রতিশোধের।

তামিম অবশ্য প্রতিশোধ কথাটায় বিশ^াসী নন। তবে সব ম্যাচই যে জিততে চান, ঝুলিতে যোগ করতে চান পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট, সেটা পরিষ্কার করেই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘প্রতিশোধ হিসেবে দেখছি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, বিশ^কাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করার জন্য যে সুপার লিগ চলছে, সেখানে পয়েন্ট পাওয়ার জন্য এটা দারুণ সুযোগ হতে পারে। আমরা খুব বেশি হোম সিরিজ খেলব না। তাই আমাদের জন্য এই সিরিজটা পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়ার একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। আমার কাছে প্রতিশোধ বিষয়টা ক্রিকেটে নেই। আমি চাই ম্যাচের দিনে আমাদের শতভাগ দিয়ে জেতার চেষ্টা করতে।’

শ্রীলঙ্কা এবার এসেছে তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে। সেখানে সাকিব আল হাসান আর মোস্তাফিজুর রহমান থাকায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে টাইগাররা বরাবরই শক্তিধর, পছন্দের সংস্করণ ওয়ানডেতে আরও বেশি। তাই বলে তামিম অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখতে নারাজ, ‘ক্রিকেটে অবশ্যই অভিজ্ঞতা ভূমিকা রাখে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলোÑ আপনি কেমন খেলছেন, পরিকল্পনার পূর্ণতা কেমন দিতে পারছেন। শ্রীলঙ্কা যে দলটা এসেছে কমবেশি ওদের সঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়ায় খেলেছি। তারা খুবই ভালো দল, ভালো ক্রিকেটার। তাদের বিপক্ষে জিততে খুব ভালো ক্রিকেটই খেলতে হবে।’

এই ভালো কেবল নির্দিষ্ট কোনো বিভাগে হলেই হবে না, ব্যাটিং-বোলিং আর ফিল্ডিংÑ তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে। সতীর্থদের সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তামিম। ব্যাটিং এবং বোলিং বিভাগ ভালো করবে বলেই বিশ^াস টাইগার দলপতির। লিটন-সৌম্য-মোস্তাফিজ-তাসকিনদের প্রতি অগাধ আস্থা তার। কিন্তু ফিল্ডিং বিভাগের যে দৈন্য বিগত কয়েকটি সিরিজে দেখা গেছে, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা পুরোপুরি দূর হয়নি তামিমের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটাকে সামনে রেখে ফিল্ডিং নিয়ে অবশ্য কাজ হয়ে বিস্তর। ব্যাটিং আর বোলিংয়েও বেশ ভালোভাবে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন টাইগাররা।

সব মিলিয়ে দলের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট তামিম। তবে ফিল্ডিং নিয়ে খচখচানি থেকেই গেছে তার মনে, ‘এটা সম্ভবত এমন এক জায়গা যা নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি। যদি শেষ পাঁচ মাস ফিরে দেখি, তা হলে দেখবেন ব্যাটিং-বোলিংয়ের চেয়ে ফিল্ডিংই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারিয়েছে আমাদের।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘আমরা মাঠে যা করছি, তাই সবাই দেখছে। অনুশীলনে যা করছি, তা চোখে পড়ছে না। আমি মনে করি, আমরা ভালো করার জন্য অনুশীলনে পর্যাপ্ত পরিশ্রম করছি। দলের সবাই আরও ভালো করতে চায়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা ভুল করে বসছি।’
ফিল্ডারদের প্রতি তামিমের তাগিদ, ‘সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। ভালো ক্যাচ নিতে হবে, দারুণ একটা-দুটো রানআউট করতে হবে। যদি সেটা করতে পারি, তা হলে আরও বেশি ম্যাচ জিততে পারব।’

About the author

CrimeSearchBD