সারাদেশ

ভোগান্তি ও বেশি ভাড়ায় ফেরা

Written by CrimeSearchBD

ঈদে ঢাকামুখী মানুষের ঢল যেন এখনও কমছে না। বুধবার ঈদের ষষ্ঠ দিনেও বহু মানুষ ঢাকায় ফিরেছে। মূলত কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে বিধায় তাদের ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। করোনার কারণে আন্তঃজেলা দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষ যেকোনো উপায়ে ঢাকায় ফিরছে। তবে বেশিরভাগই ফিরছে ট্রাকে করে। এর বাইরে কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও মিনি ট্রাকে করে ফিরছে অনেকে। এ ছাড়া গত কয়েকদিনের তুলনায় অ্যাম্বুলেন্সেও অনেককে ফিরতে দেখা গেছে। একদিকে ভাড়া যেমন বেশি, তেমনি ভোগান্তিও অনেক। স্বাস্থ্যবিধিও মানতে দেখা যায়নি। গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। ফেরিঘাটগুলোতেও প্রচুর মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বুধবার গাবতলীতে গিয়ে ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড় দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চল থেকে ফেরা ১৬ জেলার মানুষ এই রুটে ঢাকায় ফিরছে। এসব মানুষের বেশিরভাগই ঢাকা, গাজীপুর, ও নারায়াণগঞ্জে চাকরি করে। তাদের সবাইকে কর্মস্থলে ফিরতে হবেÑ তাই এভাবে ঝুঁকি নিয়ে ফিরছে তারা। গাবতলীতে পাবনা থেকে আসা রুহুল আমিন জানান, ঈদের আগে সহকর্মীদের নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে পাবনায় গিয়েছিলাম। এখন ফেরার সময় কোনো যানবাহন না পেয়ে ১ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া করে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। তিনি জানান, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ফিরলেও ট্রাকে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তারা অতিরিক্ত আয়ের আশায় ধারণক্ষমতার বেশি লোক গাদাগাদি করে ট্রাকে আনছে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার কারণে বাড়তি ভাড়া দিয়েই ট্রাকে করে মানুষজনকে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে।
কুষ্টিয়া থেকে ফেরা কুদ্দুস জানান, নৌ ও সড়কপথে দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সবাই ঢাকায় ফিরছে। অধিকাংশ মানুষকে নানা যানবাহনে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। ফলে চাইলেও সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেও ট্রাকে করে কয়েকগুণ ভাড়া বেশি দিয়ে এসেছেন।
ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপের মতো অ্যাম্বুলেন্সে করেও ফিরছে অনেকে। আলী হোসেন নামে একজন জানান, রাস্তায় কড়াকড়ি থাকায় অনেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় ফিরেছে। তিনি আরও জানান, ঢাকায় ফেরার সময় বিভিন্ন পয়েন্টে অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। ঝামেলা এড়ানোর কারণে অনেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফিরছে। দেখা গেছে, যাত্রীদের মধ্যে একজনকে রোগী সাজিয়ে অন্যরা স্বজন পরিচয় দিচ্ছে। যার কারণে পুলিশ ঝামেলা না করে সহজেই ছেড়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া অনেক অ্যাম্বুলেন্স চালক আগে থেকেই ভুয়া অসুস্থতার কাগজ তৈরি করে রাখায় তা পুলিশকে দেখালেই সহজে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।
গাবতলীতে কবির নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, বুদ্ধি করলে পুলিশি ঝামেলা এড়ানো যায়। এজন্য একজনকে রোগী সাজাতে হবে। একই সঙ্গে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নামে একটি ভুয়া অসুস্থতার ডকুমেন্ট নিতে হবে। তা হলে মাঝপথে আর কোনো সমস্যা হবে না।
বুধবার ভোরে মাওয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বেশিরভাগের কাছে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিল না। গাদাগাদি করে ফেরিতে পার হয়ে এসেছে তারা। সাতক্ষীরা থেকে ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে ঢাকায় ফেরা পারভীন আক্তার জানান, আমিনবাজার পর্যন্ত আসতে বেশ কয়েকটি গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছে। বাসা থেকে রিকশা ও সিএনজিতে করে কিছু দূর এলেও বেশিরভাগ পথ ট্রাকে করে পাড়ি দিয়েছেন। তাদের বাসা যাত্রাবাড়ী হওয়ায় একটি সিএনজি অটোতে করে রওনা হন।
পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে রহমত আলী জানান, বাগেরহাট থেকে অনেক কষ্টে ঢাকায় ফিরেছেন। পরিচিত একটি কাভার্ড ভ্যানে এসেছেন বলে তিনি জানান। তার মতো স্ত্রী ও এক কন্যা নিয়ে ফেরা মোখলেছ জানান, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আসতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। পথে পথে বিড়ম্বনা। পুলিশ বাধা দেয় আবার ভাড়াও বেশি। অনেক সময় গাড়ি না পেয়ে হেঁটে চলতে হয়েছে। এ ছাড়া সিএনজি অটো ও রিকশায় করে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। এভাবে ভোগান্তির চেয়ে দূরপাল্লার যান চালু করতে অনুরোধ জানান তিনি।

About the author

CrimeSearchBD