ক্রাইম

ককটেল রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানো মামলার আসামির লাইভ,পুলিশের কাছে পলাতক!

Written by CrimeSearchBD

গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী বাজারের কফিল উদ্দিন নামে এক চুন ব্যবাসায়ীকে দোকানে বোমা সদৃশ বস্তু রেখে ফাঁসানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলার কোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাঘুরি করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে, মামলা রুজু হওয়ার ৭ম দিনেও পুলিশের কাছে পলাতক থাকলেও মামলার দ্বিতীয় আসামি রাকিবুল হাসান নিজ এলাকায় তাঁর রাকিবুল হাসান নামের ফেসবুক আইডিতে লাইভ করতে দেখা গেছে। যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
বরমী ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এতো বড় একটি ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে গেলে তারা ভবিষ্যতে আরও অন্যরকম অপরাধ করবে নিশ্চিত । মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই তো রাকিব এলাকায় নানা জনের কাছে নানান কিছু বলছে । তাকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
সোনাকর নতুন বাজারের সাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েকদিন ধরে তো রাকিব বাজারের নয়নের দোকানে আড্ডা দিতে দেখছি। তাকে দেখে বুঝা যায় না যে সে বিস্ফোরক আইনে মামলার আসামি।
মামলার বাদী কফিল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি। মামলার বিষয়ে প্রশাসন বুঝবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক এসআই নয়ন ভুঁইয়া জানান, অন্যান্য দায়িত্ব পালনের চাপ থাকায় এ মামলার আসামিদের ধরতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়াও বাদীপক্ষ আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করলে অতি শিগগিরই আসামিদের ধরতে চেষ্টা করবো।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে (বৃহস্পতিবার) বিকেলে উপজেলার বরমী বাজারের চুন ব্যবসায়ীর দোকানে বোমা সাদৃশ্য বস্তু রেখে ফাঁসাতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মৃত সরাফত আলীর ছেলে ও বরমী বাজারের চুন ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন বাদী হয়ে রাত পৌনে বারোটায় শ্রীপুর থানায় দুজনের নামে মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের নাম রয়েছে।
আসামিরা হলেন, বরমী ইউনিয়নের বরমা গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫০) ও সোনাকর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল হাসান (২৫)। তাদের মধ্যে রাকিব সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে আসছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মামলার এজাহার ও বাদির দেয়া বক্তব্যে জানা যায়, দোকানের মালিক বরমী এলাকার রহিমা আক্তার নামের এক নারী। তিনি দোকানটি কাপাসিয়া এলাকার কফিল উদ্দিনের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। কিন্তু এতে বাদ সাথেন তার দেবর নজরুল ইসলাম। তিনি দোকানটি দখলে নেওয়ার জন্য দোকানিকে বিভিন্ন ভাবে হয়রাণী করে যাচ্ছেন । প্রায় ৩ বছর ধরে দোকানটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য ‍চাপ দিচ্ছিলেন দোকানীকে। এর অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার স্থানীয় রাকিবুল হাসানের সহযোগিতায় দোকানিকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। তারা দুজন ব্যক্তিকে দোকানে ক্রেতা হিসাবে পাঠান। চুন কেনার জন্য দরদাম ঠিক করে তারা ভ্যান গাড়ি আনার কথা বলে বাইরে বের হন। বের হওয়ার সময় দোকানে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ রেখে আসেন। কিছুক্ষণ পর নজরুল ও রাকিবুল সাংবাদিক পরিচয়ে ৪জনকে নিয়ে দোকানে প্রবেশ করেন। সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যক্তিরা দোকানে প্রবেশ করেই ফেলে যাওয়া ব্যাগে কি আছে তা দেখতে চান। দোকানি ব্যাগ খুলে দিলে সেখানে ককটেল সদৃশ বস্তু দেখা যায়। এ সময় নজরুল ও রাকিবুল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে দোকানির কাছে টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সেন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরী নম্বর ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ ‍গিয়ে ৪জনকে থানায় নিয়ে আসেন। স্থানীয়দের কাছ আটক ৪জন হলেন, দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন মধ্যবালুবাড়ী গ্রামের তানভির আহমেদ (৪০), বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আফালকাটি গ্রামের মাহমুদুল হাসান (৩১), নাটোরের লালপুর উপজেলার টিটিয়া গ্রামের মাহমুদুর রহমান(২৭), বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার জ্ঞানপাড়া গ্রামের রহিমা আক্তার ওরফে মুক্তা(২৫)।
বরমী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চারজনকে পাই। তারা অফিসিয়াল বিশেষ এসাইনমেন্টে আসছে এবং বরমীর রাকিব তাদের ডেকেছে বলে আমাদেরকে জানান। বোমা সদৃশ বস্তু রেখে রফাদফার কথাও বলছিলেন তারা।
তিনি আরও বলেন, কফিল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে পান-চুনের ব্যবসা করে আসছেন। বাজারে ভালো লোক হিসেবে তার পরিচিতি বেশ। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ এ পর্যন্ত কেউ করেননি।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার বলেন, বরমী এলাকার নজরুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টায় চাদাবাজির মামলা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আনে। প্রকৃত পক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

About the author

CrimeSearchBD