সারাদেশ

প্রকৃতিতে শীতের আমেজ

Written by CrimeSearchBD

প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে ঋতুর পালাবদল। বিদায় নিচ্ছে মৌসুমি বায়ু, আগমন ঘটছে উত্তরের হিমবায়ুর। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সকালের সূর্য, শিশির বিন্দুতে ভিজে উঠছে ঘাস, গাছপালা, লতাপাতা। কেমন যেন শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে উঠছে প্রকৃতি। শরীরের ত্বকে টান পড়ছে, শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে ঠোঁট। দিনের চেয়ে রাতের তাপমাত্রা কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। রাজধানী

ঢাকার চেয়ে গ্রামাঞ্চলে শীতের আমেজটা আরও বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে।
বাংলা পঞ্জিকায় শেষ প্রান্তিকে কার্তিক মাস। আজ ২২ কার্তিক। অর্থাৎ হেমন্তকাল। গ্রামবাংলায় চলছে নবান্নের প্রস্তুতি। ভোরের কুয়াশাঢাকা সূর্য বড় কোমল, নিস্তেজ। দেখা মেলে না সকাল ৬টার আগে। লেগে থাকে ঘাসে শিশির বিন্দু। ভোরে ঠান্ডা হাওয়া, দুপুরে মিষ্টি রোদ আর সন্ধ্যার কুয়াশা এখন গ্রামগঞ্জ, শহর-বন্দরে। উত্তরের বাতাসে তাপমাত্রা কমে হেমন্তেই এনে দিয়েছে শীতের বার্তা। মাকড়সার জালে আটকা শিশিরমাখা ভোরের একরাশ সজীব স্বপ্ন নিয়ে প্রকৃতি এখন মানুষকে কাছে টানছে। উৎসব আর আনন্দের মধ্যে নিমগ্ন খেটে খাওয়া মানুষ। এমন সময় প্রকৃতি দূর করে শীত এনে দেয় শত কষ্টের গøানি।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন প্রতিদিনই সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা কমছে। শুক্রবার টেকনাফে ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ এক দিন আগে বৃহস্পতিবারও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ঢাকা এবং চাঁদপুরে ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এখন প্রতিদিনই দেশের তাপমাত্রা কমছে। এর অর্থই হলো প্রকৃতিতে শীতের আগম ঘটছে। তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে শীত অনুভ‚ত হয়। ১৪-১৫ সেলসিয়াস হলে পুরোপুরি শীত চলে আসে। এখন থেকে প্রতিদিনই তাপমাত্র কমবে। কমতে ২০ তারিখের মধ্যে তাপমাত্রা ১৪-১৫ সেলসিয়াসে চলে আসবে।
এদিকে কুয়াশামাখা প্রকৃতি আর মাঠে ফসলের ঘ্রাণ, কৃষকের চোখমুখে আনন্দের রেখা। উৎসব আর আনন্দের মধ্যে অনেক গ্রামে শুরু হয়েছে আগাম ধান কাটা। দিনে গরম, রাতে শীতল হাওয়া আর ভোরের ঘন কুয়াশা বলে দিচ্ছে শীত আর দূরে নেই। গ্রামাঞ্চলে একটু বেশি শীত পড়তে শুরু করেছে। শীতের আগমনী বার্তার কড়া নাড়া শুরু হয়েছে। শীত জেঁকে বসার আগেই অনেক এলাকায় লেপ-তোশক তৈরির ধুম লেগেছে। কোনো কোনো এলাকায় সকালে দেখা মিলছে সাদা কুয়াশার ভেলার। এই কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের বার্তা। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের সোনারাঙা রোদ। উত্তর থেকে আসছে শিরশিরে বাতাস। ভোরের প্রকৃতিতে হাত বাড়লেই ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। গাছ থেকে ঝরছে পাতা, ঝরছে শিউলি ফুল। শেষ রাতে গায়ে কাঁথা চাপাচ্ছেন অনেকেই। যদিও দিনে গরমের তীব্রতা খুব একটা কমেনি।
দিনের রোদের প্রচÐতা কেটে গেছে। আগের মতো আর গরমের ভাব নেই। যদিও ঋতুর হিসেবে শীত আসতে এখনও বাকি প্রায় দেড় মাস। তবে বৈচিত্র্যের কারণে গ্রামবাংলায় অনেক আগেই শীত নেমে যায়। তবে এবার বর্ষার (মৌসুমি বায়ু) বিদায়ে বিলম্ব হওয়ার কারণে দেরিতে শীতের অনুভ‚তি শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গোটা অক্টোবর জুড়ে নি¤œচাপ এবং লঘুচাপের প্রভাব থাকার কারণে বাতাসে জলীয় কণার উপস্থিতি বেশি ছিল। এ কারণে দিন ও রাতে এতদিন শীতের অনুভ‚তি ছিল না বললেও চলে। শেষ পর্যন্ত নবেম্বরের শুরু থেকেই সব জটিলতার অবসান হয়েছে। বাতাসে শীতল অনুভূতি শুরু হয়েছে।
কার্তিক মাস পরই আসবে অগ্রহায়ণ মাস। এই মাসে সারা দেশে ধান কাটা শুরু হয়। দীর্ঘ বন্যা পেরিয়ে কৃষকের মুখে এখন ফসলের হাসি। তারা অপেক্ষা করছে ধান কাটার। আর কয়দিন পরই ধান কাটা শুরু হবে। ধান কাটতে কাটতে গ্রামবাংলায় শুরু হবে শীতের গান। শিশির ভেজা সকাল আর খেজুরের মিষ্টি রসের মিতালি শুরু হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজধানীতে গরম কাপড়ের ব্যবহার শুরু না হলে গ্রামবাংলায় রাতে গরম কাপড়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে। দিন যত যাবে শীতের মাত্রা আরও বাড়বে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে হেমন্তকাল হচ্ছে শরৎ ও শীতকালের মধ্যবর্তী একটি পরিবর্তনশীল পর্যায়। দিনের শেষে তাপমাত্রার ব্যাপক পতনের ফলে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিকালে হিম পড়তে শুরু করে। আর ঘাসের ওপর জমে শিশির। কুয়াশাও দেখা যায়। সাধারণভাবে সর্দি, কাশি, জ্বর প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয় এই ঋতুতে বেশি। মাঠে মাঠে থাকে সোনালি ধান। চাষিরা ধান কেটে ঘরে তোলে এবং ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব শুরু হয়। এখন কৃষকের জন্য প্রকৃতিতে অপেক্ষা করছে নবান্নের। নবান্ন শেষ হলেই জেঁকে নামবে শীত। আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, এবারও মধ্য ডিসেম্বর থেকে জেঁকে শীত নামতে পারে। শীতের সময় যেকোনো ভাইরাসজনিত রোগ বাড়ে। এ সময়ে মানুষের শরীরে ইমিউনিটি কমে যায়। এ কারণে শীতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা।

About the author

CrimeSearchBD