আইন-আদালত সারাদেশ

ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় আলোচনা

Written by CrimeSearchBD

প্রতিবছর ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে। এর কারণ নির্ণয় করতে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপরাজনীতি
মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণের ঘটনা সরকারকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে। যে কারণে ধর্ষণের সাজা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই অপরাধে অপরাধীদের যেন বিচারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয় তাও মাথায় রাখা হচ্ছে। এই ইস্যু নিয়ে অনেকে অপরাজনীতি করার সুযোগ খুঁজছে। আর ইস্যু জিইয়ে রাখার বিষয়ে কেন ধরনের এনজিও কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
বিদায়ি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ধর্ষণের সংখ্যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭১৭। আর বিদায়ি অর্থবছরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪২। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির পরিমাণ ২৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। একইভাবে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বিদায়ি অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদায়ি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ১২ হাজার ৬৬০। আর এর আগের বছরে ছিল ১১ হাজার ৫৬৯। অপরাধচিত্রসহ বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। যা শিগগির মন্ত্রিসভায় অবহিত করার জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, অন্যান্য বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারাবন্দি সংখ্যা, মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা, দ্রুত আইনের বিচার প্রয়োগ, সীমান্ত সংঘর্ষ, সীমান্তে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকের জীবনহানি, ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য, এডিপিতে সমাপ্ত প্রকল্প, উৎপাদন বিষয়ক তথ্যাদিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সর্ম্পকে তথ্য-উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে খুন, অগ্নিসংযোগ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, ডাকাতি, রাহাজানি, অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত থাকছে। বিদায়ি অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। বিদায়ি অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ৪৮৫। এর আগের বছরে ছিল ৩ হাজার ৮১৩। অগ্নিসংযোগ আগের বছরের তুলনায় বিদায়ি অর্থবছরে বেড়েছে। আগের বছরে যেখানে অগ্নিসংযোগের সংখ্যা ছিল ১১৮, সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে হয়েছে ১৪১। ডাকাতির সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় বিদায়ি অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদায়ি অর্থবছরে ডাকাতির সংখ্যা ৩৩৬। আর আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৪।
কারাবন্দির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বিদায়ি অর্থবছরে বেশ কিছুটা কমেছে। আগের বছরে বন্দির মোট সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ২৪৯। আর বিদায়ি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৮২। বন্দির ধরন হিসেবে পুরুষ হাজতি ৫৫ হাজার ৭০৩ আর পুরুষ কয়েদি ১২ হাজার ৯৭০। মহিলা হাজতি ২ হাজার ৩৬৮ আর মহিলা কয়েদি ৫৪৮। তবে রিলিজড প্রিজনারের (আরপি) সংখ্যা ৯৩। অর্থাৎ যেসব বিদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছে তাদের বলা হয়ে থাকে আরপি।
দ্রুত বিচার আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইন জারির পর থেকে ক্রম পুঞ্জীভূত মামলার সংখ্যা ২৮ হাজার ২৮০। আর আসামির সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৪। ফৌজদারি ক্রম পুঞ্জীভূত অনিস্পন্ন মামলার সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ৫২৬। শাস্তিপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ৫৬ হাজার ৪০৮। অবশ্য এর আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ৪০১।
বিদায়ি অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আর এর আগের বছরে ছিল ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদায়ি অর্থবছরে জন্ম হার প্রতি হাজারে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে হারও একই ছিল। একইভাবে মৃত্যুর হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চিত্র একই ছিল। তবে বিদায়ি অর্থবছরে নবজাতক মৃত্যুর হার ছিল ২২ শতাংশ। এর আগের বছরে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ ছিল ১৬ শতাংশ। মাতৃ মৃত্যুর হার একই ছিল বিদায়ি ও এর আগের অর্থবছরে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিদায়ি অর্থবছরে মাথাপিছু ব্যয় ছিল ২ হাজার ৮৮২ টাকা। আর এর আগের অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ১০৮ টাকা। বিদায়ি অর্থবছরে সরকারি হাসপাতাল আগের বছরের তুলনায় দুটি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ছিল ৬১২ আর বিদায়ি অর্থবছরে ৬১৪। বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এর আগের বছরে ছিল ৫ হাজার ৫৪টি। আর বিদায়ি অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৩২১টি। সারা দেশে রেজিস্টার্ড ডাক্তার ছিল বিদায়ি বছরে ১ লাখ ১১ হাজার ৪১৩। এর আগের বছরে ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৯২৭।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন করা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কর্মসূচির আওতায় বিদায়ি অর্থবছরে সুবিধাভোগী পরিবার ছিল ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭৯। এর আগের অর্থবছরে ছিল ৫০ লাখ ৭০ হাজার ৫১৮ পরিবার। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিদায়ি অর্থবছরে ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৭ ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান। এর আগের বছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৬৬৯ ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান।
বিদায়ি অর্থবছরে ভুটা, আলু, শাকসবজি, মৎস্য, মাংস, দুধ, ডিম, করলা ও চায়ের প্রকৃত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এর আগের বছরের তুলনায় অনেক কিছুর উৎপাদন কম হয়েছে বলে জানা গেছে।

About the author

CrimeSearchBD