ক্রাইম

পাহাড়ে সংঘবদ্ধ হচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা

থেকে পালিয়ে আসা বর্তমানে মোট ১২-১৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে। রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তাদের অবস্থান জোরদারে কাজ করতে নেপথ্যে বহুমুখী তৎপরতা চালাচ্ছে আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) এবং আল ইয়াকিং নামে দুটি সংগঠন।
স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেÑ রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নিজেদের মতো করে সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে তারা। মাঝেমধ্যে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে স্বার্থগত দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশ হলেও সামগ্রিকভাবে এরা একত্রে 
এবং সমঝোতা করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। জাতিকে রক্ষা করার নামে রোহিঙ্গাদের সংগঠিত করতে প্রতিটি ক্যাম্পে অবস্থিত মসজিদগুলোর ইমামদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ক্যাম্পভিত্তিক ‘ইমাম কমিটি’। একইসঙ্গে ক্যাম্পের সব ব্লকের মাঝিদের নিয়ে করা হয়েছে ক্যাম্পভিত্তিক মাঝি কমিটি।
সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, প্রতি ক্যাম্পের ইমাম কমিটি এবং মাঝি কমিটিতে নির্বাচিত করা হয়েছে একজন করে চেয়ারম্যান। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা সরাসরি আরসা এবং আল ইয়াকিংয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। ইমাম কমিটির বিশেষ দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের মগজধোলাই করা। ৮-১০ বছরের রোহিঙ্গা শিশুদের মক্তবে ইসলামী শিক্ষা দেন মসজিদের ইমামরা। মূলত এ পর্যায়ে শিশুদের তাদের ভবিষ্যতের জন্য ‘বিশেষ’ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এখানে ক্যাম্পভিত্তিক নিজস্ব বিচারব্যবস্থা চালু করা হয়েছে রোহিঙ্গা ইমাম ও মুরব্বিদের নিয়ে। বিচার, সালিশ এবং শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের মতানুসারে শরিয়তের বিধান প্রয়োগ করা হয়। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার ২৭টি ক্যাম্পে রাতের বেলায় ভিন্নরূপ ধারণ করে। মধ্যরাতে কিছু রোহিঙ্গার গতিবিধি থাকে রহস্যজনক।
সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিশেষ স্থানে আরসা এবং আল ইয়াকিং অস্ত্র মজুদ করেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সবচেয়ে বেশি অস্ত্রের মজুদ আছে টেকনাফের নয়াপাড়ার রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে। এ ছাড়া ক্যাম্প ২০ এবং ক্যাম্প ৪-এর এক্সটেনশন অংশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অস্ত্র মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। ক্যাম্পগুলোতে অস্ত্র সংগ্রহ এবং মজুদ, প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্ক ও নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী পরিচালনাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিশাল অঙ্কের তহবিল গঠনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওই দুই সংগঠন। ইয়াবা ব্যবসা, নারীপাচার ও অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে গঠন করা হচ্ছে এসব তহবিল।
ক্যাম্প ১৭ ও ক্যাম্প ২০ এক্সটেনশনে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমাদের করার কিছুই নেই। আমরা মহিলারা ঘরের বাইরে যেতে পারি না। আমাদের যেভাবে চালায়, সেভাবেই চলি। আমাদের ছেলে-সন্তানদের তারা কীভাবে ব্যবহার করছে আর কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, আমরা কিছুই জানি না।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, অস্ত্র প্রশিক্ষণের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমার কিছু জানা নেই। তবে অভিযোগ যেহেতু উঠেছে সেহেতু সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক দৃষ্টি রাখতে হবে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটা বড় অংশ কিশোর এবং যুবক। তাদের শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই, কোনো কাজ নেই। অলস-কর্মহীন হয়ে বসে আছে। যেকোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী খুব সহজেই তাদের ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের বিষয়টি পুরোপুরিই ভিত্তিহীন। এমন কিছু করার সুযোগও কম। কিছু রোহিঙ্গা হয়তো রাতের অন্ধকারে পালিয়ে কখনও কখনও মিয়ানমারে যায় মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়ার কাজে, কেউ-বা আবার যায় তাদের রেখে আসা সম্পত্তি দেখাশোনা করতে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর দিকে সবসময় বাড়তি নজরদারি করা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে পুলিশসহ সব সংস্থায় সতর্ক রয়েছে।

About the author

Mahmudul Hasan

Leave a Comment