খেলাধুলা জাতীয়

ট্রিপল সেঞ্চুরিতে তামিমের রেকর্ড

Written by Mahmudul Hasan

বিশ্বকাপের পর থেকে নিজের ছায়া হয়েই ছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার নিষ্প্রভ ব্যাটিং নিয়ে চলছিল বিস্তর সমালোচনা। হতাশ তামিম নিজেকে ফিরে পেতে বিশ্রামেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ফিরেও পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধীর গতির ব্যাটিংয়ে সমালোচনা মুক্ত থাকতে পারেননি। অবশেষে বিসিএলে পূর্বাঞ্চলের হয়ে সব প্রশ্নের জবাব দিলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে।
রোববার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তামিম। পাকিস্তানে আসন্ন টেস্ট সফরের আগে এটা তার জন্য দারুণ প্রস্তুতিই। 
ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে তামিম খেলতে নেমেছিলেন ৬ বছর পর। শনিবার ২০৭ রান করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানকেও (২০৬) ছাড়িয়ে গেছেন। দিনশেষে অপরাজিত ছিলেন ২২২ রানে। রবিবার এই রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তুলে ফেলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি। শুভাগত হোমের বলে মিড উইকেটে সিঙ্গেল নিয়ে পৌঁছে যান নিজের প্রথম ত্রিশতকে। পূর্বাঞ্চলের ইনিংস ঘোষণার আগে তামিম অপরাজিত ছিলেন ৩৩৪ রানে। যা ভেঙে দিয়েছে একাধিক রেকর্ড।
শনিবার ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন তামিম। দিন শেষে ২৮১ বল খেলে অপরাজিত ছিলেন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২২২ রান করে। রোববার সকালে একই ঢংঙে খেলে ৩১৫ বলে ছুঁয়ে ফেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম আড়াইশ রানের মাইলফলকও।
এরপরই কেমন যেন খোলসবন্দী হয়ে পড়েন তামিম। আড়াইশ থেকে থেকে তিনশতে যেতে ৯২টি বল লেগেছে তামিমের। যা কি না তার এ ইনিংসের প্রথম পাঁচ ফিফটির চেয়ে ধীরতম। সবমিলিয়ে ৫৬০ মিনিটে ১০৯টি সিঙ্গেল, ১৪টি ডাবল, ১টি ট্রিপল ও ৪০টি বাউন্ডারির মাধ্যমে তিনশ রান করেন তামিম।
তবে তিনশ পূরণ হওয়ার পরই আবার ভিন্ন রূপ তামিমের ব্যাটে। যেখানে প্রথম ৪০৭ বল খেলেও একবারের জন্যও ছক্কা হাঁকাতে যাননি তিনি, সেখানে তিনশ হওয়ার পর মুখোমুখি ১৫তম বলেই হাঁকান ছক্কা। পরের চার বলে হাওয়ায় ভাসিয়ে বল সীমানা ছাড়া করেন আরও দুইবার। ১৪০তম ওভারের পঞ্চম বলে তামিম তার ইনিংসের তৃতীয় ছক্কা হাঁকানোর পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন পূর্বাঞ্চল অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ।
তার আগে তামিমের নামের পাশে জমা হয় ৪২৬ বলে ৪২ চার ও ৩ ছয়ের মারে ৩৩৪ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। অর্থাৎ ৪০৭ বলে তিনশ করার পর খেলা ১৯ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ের মারে ৩৪ রান করেন তামিম। যা তাকে এনে দিয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে এবং বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড।
২০০৬-০৭ মৌসুমে জাতীয় লিগের ম্যাচে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বরিশালের হয়ে সিলেটের বিপক্ষে ৩১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ডানহাতি রকিবুল। ৬৬০ মিনিট ৬০৯ বলে ৩৩ বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল ঐ ট্রিপল সেঞ্চুরি।
এতদিন ধরে এটিই ছিলো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস। সেটিকে আজ ছাড়িয়ে গেছেন তামিম। মজার বিষয় হলো, তামিমের এ কীর্তিটি ফিল্ডিংয়ে থেকেই দেখেছেন রকিবুল হাসান। দৌড়ে এসে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তামিমকে।
এছাড়া তামিম ছাড়িয়ে গেছেন আরেক কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারাকেও। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৩১৯* রানের ইনিংস খেলেছিলেন সাঙ্গাকারা। এতদিন বাংলাদেশের মাটিতে এটিই ছিলো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। যা আজ থেকে দখলে নিয়েছেন দেশসেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল।

About the author

Mahmudul Hasan

Leave a Comment