সারাদেশ

সার আমদানিতে পতাকা আইন মানা হচ্ছে না

Written by CrimeSearchBD

বিদেশ থেকে সার আমদানিতে পতাকা সংরক্ষণ আইন-২০১৯ সঠিকভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে। আইনটি যেন কড়াকড়িভাবে মানা হয় সেজন্য তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। প্রতিবছর বিদেশ থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ সার আমদানি করে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এসব সার আমদানি হয়। পতাকা সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারি পণ্য পরিবহনে জাতীয় পতাকাবাহী বিএসসির জাহাজে সরকারি পণ্য বহন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা পালিত হচ্ছে না। বিএসসি এখন তৎপর হয়েছে সরকারি দুই সংস্থা সার আমদানির ক্ষেত্রে যেন জাতীয় পতাকাবাহী বিএসসির জাহাজ অবশ্যই ব্যবহার করে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিএডিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর সুমন মোহাম্মদ সাব্বির। বিসিআইসির সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোয় জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এখন সার আমদানি হচ্ছে প্রচুর। বিএডিসি এবং বিসিআইসির সারবাহী একাধিক জাহাজ প্রতি সপ্তাহেই বন্দরে ভিড়ছে। কিন্তু সেখানে বিএসসির কোনো জাহাজ নেই। সব বিদেশি জাহাজে আসছে সার। পতাকা সংরক্ষণ আইনের তোয়াক্কা না করায় বিএসসি যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও বিদেশে চলে যাচ্ছে। অথচ পতাকা আইন অনুযায়ী এই সার বিএসসির জাহাজ বহন করলে সংস্থাটি আরও লাভজনক হয়ে উঠবে। একদা লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত বিএসসি এই করোনা মহামারির দুর্যোগকালেও লাভের মুখ দেখেছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে বিএসসির নিট লাভ হয়েছে ৮ কোটি টাকা। সংস্থার তিনটি তেলবাহী জাহাজ এখন সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানির অধীনে মাসিক ভাড়া চুক্তিতে চলছে। তিনটি বাল্ক কার্গো জাহাজের মধ্যে একটি ভারতীয় ডেল্টা শিপিংয়ের কাছে, একটি সিঙ্গাপুরের ধাবা কোম্পানির কাছে এবং অন্য একটি লন্ডনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে। সবকটি জাহাজের ক্যাপ্টেন-ক্রু সবাই বিএসসির। অতীতের মতো এখন আর কোনো জাহাজ বসিয়ে রাখতে হচ্ছে না বলে বিএসসি লোকসানের বোঝা কাটিয়ে এখন লাভের লাভের মুখ দেখছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আমদানি করা সার যদি বিএসসির জাহাজে বহন করা হয় তাহলে সংস্থা যেমন লাভবান হবে, দেশও মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় থেকে রক্ষা পাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে বন্দরে সারবাহী পাঁচটি জাহাজ ছিল। এর মধ্যে এমভি মুনবিম ৪৫ হাজার টন এমওপি, সি ইমপিরিশন ২৬ হাজার ২৫০ টন টিএসপি, সালানু ৪৩ হাজার ৯০০ টন ডিএপি, টাইগ্রিস ২৬ হাজার ২৪৬ টন ডিএপি এবং গোল্ডেন লোটাস ২৭ হাজার টন ইউরিয়া সার নিয়ে আসে। এসব জাহাজ এবং এর আগে ও এখন যেসব জাহাজ আসছে তার মধ্যে একটিও জাতীয় পতাকাবাহী জাহাজ নেই।
বিএসসির নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্যিক) ড. পীযূষ দত্ত সময়ের আলোকে জানান, বিএডিসি এবং বিসিআইসি মূলত সার আমদানি করে। তারা যে টেন্ডার আহ্বান করে তাতে শর্ত দেওয়া হয় আমদানির পর চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে সার খালাসের পর তা তাদের নির্ধারিত গুদামে পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু এটি বিএসসির পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের কাজও তা নয়। আমরা সার এনে বন্দরে খালাস করার পর তারা নিজ দায়িত্বে নিয়ে যাবে, এটাই হওয়ার কথা। এখন শর্তের বেড়াজালে বিএসসির জাহাজ আমদানি করা সার পরিবহনের দায়িত্ব পাচ্ছে না। আমরা একবার একটি লট তাদের শর্ত অনুযায়ী আমাদের জাহাজে এনে বিপাকে পড়েছিলাম। কারণ তারা খালাসের পর আর সার নেয় না। দিনের পর দিন ফেলে রাখে। অথচ আমদানিকৃত সব সার বিদেশ থেকে পরিবহনের দায়িত্ব পেলে বিএসসির আর কিছু লাগে না। এতে পতাকা আইনও লঙ্ঘিত হয় না। আবার বৈদেশিক মুদ্রারও সাশ্রয় হয়।
এসব বিষয় নিয়ে বিএসসি বারবার বিএডিসি এবং বিসিআইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাতে কোনো লাভ না হওয়ায় আমরা এবার সরাসরি গিয়ে বিএডিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে এই টিমের সঙ্গে আলাপকালে বিএডিসি চেয়ারম্যান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ^াস দিয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। এ নিয়ে বিসিআইসির সঙ্গেও বিএসসি বৈঠকে বসবে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: