জাতীয় সংবাদ

সরকারের দ্বিতীয় বছর : করোনায় থামেনি উন্নয়নের গতি

Written by CrimeSearchBD

করোনা মহামারির মধ্যেই সরকারের দুই বছর পূর্তি হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। একদিকে করোনা মোকাবিলা অন্যদিকে উন্নয়নে গতি রাখা; দুটোই সমানতালে করেছে সরকার। মাঝেমধ্যেই দ্রব্যমূল্যের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্বাস্থ্য খাতে সফলতার পাশাপাশি কিছু দুর্নীতি বেরিয়ে এলেও সরকার তা দমন করেছে কঠোরভাবে। দলীয় জনপ্রতিনিধি যারা সরকারি অনুদানে অনিয়ম করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও সরকারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ সময়ে নির্বাচনি রাজনীতিকে ঘিরে কিছু রাজনৈতিক সমালোচনায় পড়ে সরকার। টানা তৃতীয় মেয়াদে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৭ জানুয়ারি ২০১৯ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তিনবার ও চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেন।
সরকারের দ্বিতীয় বছরের শুরুটা ছিল বিশ^জয়ের। গত ৯ ফেব্রুয়ারি আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ^কাপে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ^কাপ জয় করে। তার পরপরই ২০২০-এর ৮ মার্চ বাংলাদেশে শনাক্ত হয় প্রথম করোনাভাইরাস। করোনা মোকাবিলায় সরকার যুগোপযোগী সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে খাবার পৌঁছানোর পাশাপাশি ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। গার্মেন্টসে প্রণোদনা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগÑ চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ। করোনা ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন ও ভ্যাকসিন প্রাপ্তির চুক্তির মাধ্যমে সরকার মহামারি প্রতিরোধের ব্যবস্থায় জোর দিয়েছে।
করোনা মহামারির মধ্যেই বিজয়ের মাসে অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃষ্টান্তস্বরূপ পদ্মা জয় হয়। ১০ ডিসেম্বর ৪১তম স্প্যানটি বসলে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়। ২৯ ডিসেম্বর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বন্দরে ভিড়ে জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’। করোনার মধ্যেও সরকারের অবৈধ দখল উচ্ছেদ অব্যাহত ছিল। নদী তীরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, রাজধানীর অবৈধ দোকান ও খাল উদ্ধারের তৎপরতায় স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর। শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বছরের শুরুতে পৌঁছেছে নতুন বই। ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য সরকারের। গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে বাড়ি করে দেওয়া শুরু হয়েছে সরকারের দ্বিতীয় বছরে।
বিশ^ব্যাপী করোনার আঘাত শুরু হওয়ায় সামগ্রিক কাজকর্মে কিছুটা ছেদ পড়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও বন্ধ ছিল মার্চ-মে সময়ে। তারপরও করোনার মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে। দেশজুড়ে ১০০ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান। পদ্মা সেতুতে রেললিঙ্ক প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২৮ শতাংশ। একইভাবে চলছে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর কাজ। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের প্রথম অংশ দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সম্পন্ন হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগিয়ে চলেছে। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) কাজেও গতি ফিরেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মার্চে খুলে দেওয়া হয়েছে ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়েটির মূল অংশ। এ প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশ তেঘরিয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজেও গতি ফিরেছে। যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৪ কিলোমিটারের বঙ্গবন্ধু টানেল। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের কাজেও গতি ফিরেছে।
করোনা মোকাবিলায় শীর্ষ ২০-এ বাংলাদেশ : করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছে এমন শীর্ষ ২০ দেশের তালিকা সংবলিত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ। মরণব্যাধি করোনা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের জন্য সহনশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে আর্থ-সামাজিক উন্নতিসহ বসবাস উপযোগী নিরাপদ শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। করোনার টিকার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
করোনার শুরুতে প্রথম কিস্তিতে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি, দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ৭ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজেই দেশের মানুষকে করোনা থেকে সুরক্ষা, চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষের জীবিকার চাকা সচল এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ইতোমধ্যে চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে মর্মেও ঘোষণা করেছেন তিনি। মূলত মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের কারণেই ঘুরে দাঁড়ায় দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
ডিজিটাল বাংলাদেশ : করোনার সময়ে দেশে ডিজিটাল সেবা বেড়েছে। বলা হচ্ছে, ডিজিটাল না হলে বাংলাদেশ বিশ^ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কোভিড-১৯-এর বিপর্যয় দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল যোগাযোগের সম্ভাবনাগুলোকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশে^র বেশিরভাগ দেশের মতো বাংলাদেশও লকডাউনের সময় ঘরে বসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হওয়ায় সরকার কোভিড-১৯-এর মাধ্যমে সৃষ্ট ‘নিউ নরমাল’ জীবনযাত্রা মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ শক্তভাবেই গ্রহণ করে। মহামারি চলাকালীন বিভিন্ন পরিষেবাকে অনলাইনে রূপান্তর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনার আলোকে সরকার বিভিন্ন নীতি ও কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।
ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসরত তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলতে পারছে যা দেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব এনেছে। এমনকি মহামারি চলাকালীন আইসিটি বিকাশের কারণে অনলাইন বিপণন শিল্প বেশ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। লকডাউনের সময়ে অনলাইন ব্যবসায় লেনদেনের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। মানুষ আজকাল অসংখ্য অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা করে। এটি কেবল সাধারণের জীবনযাপনই সহজ করেনি, বরং ট্যাক্স এবং ভ্যাট আকারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করার সুযোগ তৈরি করেছে সরকারের জন্য।
করোনায় রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড : মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্স পাঠিয়ে রেকর্ড গড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৯০ কোটি ৪৪ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা)। ৩০ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। ১ জুলাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে দুই টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন প্রবাসীরা। এর ফলে করোনার মধ্যেও রেকর্ড গড়ছে রেমিট্যান্স। একই সঙ্গে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মন্দা কাটাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ লাখ টাকা কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া দুই শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। আগে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ : দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রায় ১ দশমিক ২২ লাখ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। মোট ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ-১-এ ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেওয়া, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা। প্যাকেজ-২ ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা।
প্যাকেজ-৩-এ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো, ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। প্যাকেজ-৪-এ প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধার। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার ৭ শতাংশ। প্যাকেজ-৫-এ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি আপদকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ফুরফুরে মেজাজে পুঁজিবাজার : লম্বা ধকল কাটিয়ে ভালো অবস্থানে ফিরেছে পুঁজিবাজার। মঙ্গলবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। ২০১০ সালের ধসের পর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ায়নি। মাঝেমধ্যে এক-দুই মাসের জন্য বাজারে কিছুটা ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেলেও পরে আর সেটা স্থায়ী হয়নি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আরও একটি বড় ধসের মুখে পড়ে পুঁজিবাজার। বেশিরভাগ শেয়ারের দর তলানিতে নেমে যায়। মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে লকডাউনের মধ্যে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকে লেনদেন। ৩১ মে থেকে দেশের পুঁজিবাজারে ফের লেনদেন শুরু হয়।
সুশাসনে কঠোরতা : সাহেদ, সাবরিনা, মালেক ও পিকে হালদারের মতো আর্থিক জালিয়াতকারীদের কঠোরহস্তে দমন করেছে সরকার। করোনার ত্রাণ আত্মসাৎ করা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। ধর্ষণ খুব মারাত্মক ব্যাধি আকারে দেখা দেয়। দাবির মুখে সরকার ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে অধ্যাদেশ জারি করে।
জিডিপিতে শ্রেষ্ঠত্ব : জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তার প্রতিবেদনে প্রকাশ করছে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভারত থেকে তথা এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে ওপরে আছে বাংলাদেশ, যা বাঙালি জাতির জন্য সুখের ও গর্বের। তা ছাড়া বর্তমানে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ অনুসারে বাংলাদেশ বিশে^র ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।
স্বাস্থ্য : করোনাভাইরাস সামলাতে গিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা খাতের দুর্বলতা ধরা পড়লেও সাফল্য কিন্তু মোটেই কম নয়, যার স্বীকৃতি পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিকভাবে। এ থেকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন, সচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে সরকারের আন্তরিক প্রয়াস ও প্রতিশ্রুতি দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য পিপিই-মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করে সরকার; টেস্টিং কিট আমদানি করে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ল্যাব স্থাপনসহ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়; করোনা মোকাবিলার ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য ৫-১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং এর ৫ গুণ জীবন বীমা ঘোষণা; ২ হাজার ডাক্তার, ৫ হাজার ৫৪ জন নার্স এবং ৫ হাজার স্বাস্থ্য টেকনোলজিস্ট নিয়োগ; স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শের জন্য তিনটি হটলাইন চালুর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে সরকার।
মাতারবাড়ীতে প্রথম জাহাজ : গত বছরের ১০ মার্চ একনেকে পাশ হয় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প। ২৯ ডিসেম্বর এ বন্দরে প্রথম জাহাজ আসে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ সহায়তা ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিচ্ছে ২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। আরেক সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের জন্য প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাবনাবাদ চ্যানেল দেড় বছরে খনন হবে ও এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ক্রমেই বিদেশি জাহাজের আগমন বাড়ছে মোংলা বন্দরে।
রোহিঙ্গা স্থানান্তর : মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর স্বজাতি নির্মূলের তাণ্ডবলীলায় বাংলাদেশ সীমান্তে ২০১৭ সালের আগস্টে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের। মানবিকতার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়ে কক্সবাজার ও উখিয়াতে বাস্তুচ্যুত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। যা আন্তর্জাতিক মহলে কুড়ায় অভূতপূর্ব প্রশংসা। দফায় দফায় আলোচনা, প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা কূটকৌশলে তিন বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে খাবার, আবাসন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। সব বাধা পেরিয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গারা যেতে রাজি হওয়ায় পুরো বিষয়টিকে সরকারের অনেক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বন্যা ও আম্ফান মোকাবিলা : দেশে বন্যা ও নদীভাঙন খুব খারাপ পরিস্থিতির দিকে মোড় নিয়েছিল। ৩২টি জেলায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যা মোকাবিলায় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে সরকার। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানও সরকার সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: