সারাদেশ

রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশ-ভারতের অবস্থান একই

Written by CrimeSearchBD

বাংলাদেশের মতো ভারতও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারত ও বাংলাদেশের অবস্থানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নিপীড়নের মুখে পালিয়ে এসে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে ভারত ও চীনের ভূমিকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
দোরাইস্বামী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এটা প্রশংসার দাবি রাখে। রোহিঙ্গাদের এখানে রাখার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা চমৎকার। তিনি আরও বলেন, এটা একদম পরিষ্কার, আমরা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন চাই। সবক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা থাকবে। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত যাওয়া বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মেনে নেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয় নিয়েও দোরাইস্বামীকে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার ৯৫ শতাংশ ঘটে ভারতের সীমান্ত এলাকায়। ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে রাত ১০টার পর। এ সময় অবৈধ অনুপ্রবেশও ঘটে। এসব ঘটনা বন্ধে সীমান্তে বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন ভারতের হাইকমিশনার।
এদিন ঢাকায় বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামও বলেন, সীমান্তের জনগণকে সচেতন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারলে সীমান্ত হত্যা কমবে বলে মনে করেন তিনি। বিক্রম দোরাইস্বামী প্রেসক্লাবে তার বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ চট্টগ্রামের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চারশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ^ বাণিজ্যের গেটওয়ে। এর সোনালি অতীত রয়েছে। ভবিষ্যতের হিসেবে অর্থনৈতিক দিক থেকে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বেশি।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি ও ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: