আন্তর্জাতিক

রিজার্ভে ৪০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড

Written by CrimeSearchBD

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের রেকর্ড ভেঙে ৪০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রিজার্ভ। এই রিজার্ভ দিয়ে দশ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বর্তমান বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ পাকিস্তানের চাইতে তিনগুণ।
করোনার ধাক্কায় থমকে গেছে গোটা বিশ^। থমকে গেছে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাÐ। অর্থনীতিতে প্রতিমুহূর্তে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন খারাপ খবর। গত চার মাসে রফতানি নেমে গেছে তলানিতে। দেশের আমদানিও কমেছে তরতর করে। খারাপ খবরের ছড়াছড়ির মধ্যেও সুসংবাদ দিচ্ছেন প্রবাসীরা। করোনা সঙ্কটের মধ্যেও বৈধ পথে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে আসছে।
রিজার্ভ রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা দেশে প্রচুর পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণ ও অনুদান আসছে। আমদানি ব্যয় হ্্রাস পাওয়ায় দেশের রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে। তবে রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব না হলে রিজার্ভের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। ১ সেপ্টেম্বর দেশের রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তা আরও বেড়ে ৩৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। ৭ সেপ্টেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মাসের ১ বিলিয়ন ডলারের মতো আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। রেমিট্যান্সের উল্লম্ফনে ২০ সেপ্টেম্বর সেই রিজার্ভ আবার ৩৯ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ওঠে। বৃহস্পতিবার তা আরও বেড়ে ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষদিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত¡াবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভে ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। সে সময় আকুর বিল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তাতে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত। আর রিজার্ভ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে, বিশ^ব্যাংক-আইএমএফসহ দাতাদের সহায়তা পাওয়া যাবে নাÑ এই বিবেচনায় আকুর দেনা পুরোটা শোধ না করে অর্ধেক দেওয়া হয় তখন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই একবারই আকুর বিল বকেয়া রাখা হয়েছিল বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: