ক্রাইম সারাদেশ

মাওয়া ঘাটে টাকার খেলা

Written by CrimeSearchBD

দালালদের কাছে। ৭০-১০০ টাকার ভাড়া ৫০০-৭০০ টাকা নিয়ে ট্রলারে পার করা হচ্ছে যাত্রীদের। আর এই বাড়তি টাকা চার ভাগ হয়ে যাচ্ছে ঘাটের বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা, নৌপুলিশ, ঘাটের দালাল এবং ট্রলার চালকের পকেটে। প্রকাশ্যে চলছে টাকার লেনদেন, তবুও দেখার কেউ নেই। সোমবার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
ফেরি বন্ধ থাকায় শিমুলিয়া ঘাটে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা ফেরির পন্টুনে ট্রলার ভিড়িয়ে পার করছেন মোটরসাইকেলবাহী যাত্রীসহ অন্যান্য যাত্রী। এজন্য ঘাট কর্মকর্তারাই ভাড়ার বড় একটি অংশ নিয়ে নিচ্ছেন ট্রলার চালকের কাছ থেকে। এমনকি ঘাটের পন্টুন ব্যবহার করে ট্রলারে পাওয়ার টিলার তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওপারে। এজন্য ঘাটের এক কর্মকর্তাকে ৫০০ টাকা নিতে দেখা গেল। যে যেভাবে পারছে যাত্রীর পকেট খালি করে নিজের পকেট ভরছেন।
কিছুক্ষণ পরপরই শিমুলিয়া ঘাটে ভিড়ছে মোটরসাইকেল ও যাত্রী ভর্তি একেকটি ট্রলার। একেকটি ট্রলারে থাকছে ২০-২৫টি মোটরসাইকেল। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকলে এসব মোটরসাইকেল চালক মাত্র ৭০ টাকায় এপার হতে ওপারে যেতে পারতেন। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় সেই ৭০ টাকার ভাড়া ৫০০-৭০০ টাকা দিয়ে পার হতে হচ্ছে। যদিও ফেরিঘাটের আশপাশে কোনো ট্রলার ভেড়ার কথা না কিংবা ট্রলার ঘাট স্থাপনের নিয়ম নেই। তবুও ফেরিঘাটগুলোই এখন যেন পুরোপুরি ট্রলার ঘাটে পরিণত হয়েছে। ঘাট এলাকায় এখন সবচেয়ে বেশি দাপট দালাল চক্রের। একটি ট্রলার ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ঘিরে ধরছেন দালালরা। একে একে মোটরসাইকেল নামানোর পর ঘাটের দালাল নিচ্ছেন ২০০ টাকা, বিআইডব্লিউটিসির ডিউটিরত কর্মীরা নিচ্ছে ১০০ টাকা, পুলিশ নিচ্ছে ১০০ টাকা। আর যে ট্রলার চালক পার করে দিচ্ছেন তিনি পাচ্ছেন ১০০ টাকা। সুতরাং ঘাটে দালালরাই এখন বেশি লুটছেন যাত্রীর পকেটের টাকা।
এমনই একটি দালাল চক্রের প্রধান হানিফ মাতবর। শিমুলিয়া ঘাটে তার লোকজনদেরই বেশি দাপট দেখা গেল। ঘাটে টাকার ব্যাগ নিয়ে সারা দিন বসে থাকে এই হানিফ মাতবরের লোকেরা। ট্রলার ভিড়লেই তার লোকেরা সবার আগে বুঝে নিচ্ছে তাদের হিস্যার অংশ। এমনই এক সদস্যের নাম সাকিল। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি হানিফ মাতবরের চাচাত ভাই। এই ঘাট তার ভাই ইজারা নিয়েছেন। অথচ ফেরিঘাটের পাশে ট্রলার ঘাট করার কোনো নিয়ম নেই বলে জানালেন বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা। এখানে তাদের কোনো অনুমতিও নেই। সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে পুলিশ ও ঘাট কর্মকর্তাদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করেই তারা বাড়তি টাকা নিয়ে যাত্রী পার করছেন বলে জানালেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র মাওয়া ঘাট কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বলেন, সঙ্কটের কারণে কিছু ট্রলারে পারাপার হচ্ছে। তবে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে যাত্রীরা অনেকটা জোর করেই ট্রলারে পার হচ্ছেন। আমরা বাধা দিতে গেলে যাত্রীরা জোট বেঁধে আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। তারা বলছেÑ আমরা যেভাবে পারি পার হব, তাতে আপনাদের কি। এ জন্য আমরা জোর দিয়ে কিছু বলতেও পারছি না। তবে ঘাটে দায়িত্বরতদের টাকার ভাগ নেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান মহিউদ্দিন।
এদিকে মাওয়া ঘাট নৌপুলিশের ওসি সিরাজুল কবীর সময়ের আলোকে বলেন, মূলত বিআইডব্লিউটিএ’র লোকদের ম্যানেজ করেই ট্রলার চালক ও ইজারাদাররা এভাবে যাত্রী পারাপার করছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো প্রতিহত করার চেষ্টা করছি, তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না। আর বাড়তি ভাড়া এবং এর ভাগ নৌপুলিশের কোনো সদস্য নেয় বলে আমি মনে করি না। হয়তো দুয়েকজন সদস্য এর সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখানকার সব নৌপুলিশের নাম বলা ঠিক না। তারপরও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। তা ছাড়া যাত্রী হয়রানি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি আর যাতে না ঘটে আমরা সেটিও দেখব গুরুত্বের সঙ্গে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: