রাজনীতি

বিশেষ অঙ্গীকার পূরণের পথে সরকার

Written by CrimeSearchBD

আজ থেকে দুবছর আগের কথা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ইশতেহারে ছিল অনেক অঙ্গীকার, অনেক প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে একটি অন্যতম ছিল ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। অর্থাৎ গ্রাম আর অবহেলিত থাকবে না। গ্রামের মানুষ পাবে শহরের সব সুযোগ-সুবিধা। যার মধ্য দিয়ে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আজ ২২টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভা হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ যোগাযোগ, গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার, গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি স্পেস ও বিনোদন ব্যবস্থা এবং উপজেলা উন্নয়ন পরিকল্পনা। গ্রামীণ যোগাযোগের জন্য সব গ্রামকে পর্যায়ক্রমে পাকা সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। তবে এর আগে সড়কের অগ্রাধিকার বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সড়ক মেরামত খাতে বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানো থেকে শুরু করে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার দেশজ কর্মসূচিতে অঙ্গীকার নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প সাহায্য সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় হবে ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় হবে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। তবে উন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ১৭ ভাগ অর্থ বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে।
গ্রামীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশজুড়ে প্রতিটি গ্রাম পর্যন্ত কোর রোড নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা হবে। দুর্যোগ সহনশীল ১৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার সড়ক আপগ্রেডেশন করা হবে। প্রতিটি গ্রামে উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ৩২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়াও ১ লাখ ৬৫ হাজার মিটার ব্রিজ বা কালভার্ট উন্নয়ন করা হবে।
গ্রোথ সেন্টার ও হাটবাজার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মানসম্মত ভোগ্যপণ্য পাওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশজুড়ে ৪০০টি গ্রোথ সেন্টার-কেন্দ্রিক নগর কেন্দ্র উন্নয়ন করা হবে। যেখানে উন্নত পানি সরবরাহ থেকে শুরু করে বিদ্যুতায়ন, উন্নত যোগাযোগ ও শিক্ষা স্বাস্থ্য সুবিধা থাকবে।
গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে সমীক্ষার ভিত্তিতে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে পাইপড আর মাঝারি হালকা ঘনবসতি গ্রামের জন্য মিনি পাইপড পানি সরবরাহ করা হবে। এর পাশাপাশি পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়াও স্যানিটেশন সুবিধা তো থাকছেই। দেশের লবণাক্ত, আর্সেনিক, পাহাড়ি এলাকা, হাওর-বাঁওড় ও চরাঞ্চলের জন্য আলাদাভাবে লাগসই পানি সরবরাহ করা হবে। দেশব্যাপী উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা ৬১ ভাগ থেকে ৭০ ভাগ উন্নীত করা হবে। দেশের ৫০০টি হাটবাজার গ্রোথ সেন্টারের জন্য টেকসই পানি সরবরাহ থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন করা হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম পরিচ্ছন্ন শহর’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে। পচনশীল আর অপচনশীল বর্জ্যরে ইউনিয়নভিত্তিক ব্যবস্থাপনা মডেল উন্নয়ন ও নির্বাচিত গ্রামে প্রয়োগ করা হবে।
কমিউনিটি স্পেস ও বিনোদন ব্যবস্থা নিয়ে কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে পল্লী অঞ্চলে ৫০০টি বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ধারেকাছে কমিউনিটি স্পেস উন্নয়ন। সম্ভাব্যতা যাচাই করে ২৫০টি খাস জলাশয় বা পুকুর কিংবা খালের পাড় সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। ৫০০টি গ্রামে দান করা জমি বা স্থাপনায় কমিউনিটি স্পেস বা বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আজকের সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, আপাতত ৮টি বিভাগের ৮টি উপজেলায় নির্বাচিত ৮টি গ্রাম ও নির্বাচিত ৭টি অঞ্চলের ৭টি গ্রামÑ মোট ১৫টি গ্রামে পাইলট গ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কিসের ভিত্তিতে এসব গ্রাম নির্বাচন করা হবে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ভৌগোলিক অবস্থান, দারিদ্র্য পরিস্থিতি ও অনগ্রসরতা সূচক বিবেচনা করে পাইলট গ্রাম নির্বাচন করা হতে পারে। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। আজকের সভায় আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে নগর উন্নয়ন অধিদফতর দেশের ১৪টি উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাইলট গ্রাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব উপজেলার গ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য যে বিষয়গুলো প্রয়োজন হবে এর মধ্যে রয়েছেÑ কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা, সুপেয় পানির সুবিধা সৃষ্টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধার জন্য কার্যকর ব্যাংক, ই-গভর্নেন্স সুবিধা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি উন্নয়ন, সর্বাধুনিক ও সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: