সারাদেশ

বিকৃত মানসিকতার মুন্না ভগত গ্রেফতার

Written by CrimeSearchBD

ডোম মুন্না ভগত (২০) কাজ করত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেখানে তার দায়িত্ব ছিল লাশ পাহারা দেওয়া। কিন্তু এ পাহারার আড়ালে মুন্না প্রতি রাতে লাশের সঙ্গে মেতে উঠত জঘন্য নেশায়। বাছাই করা ১২ থেকে ২০ বছরের তরুণীর লাশ ধর্ষণের শিকার হতো।
বিষয়টি এত দিন গোপন থাকলেও সম্প্রতি মোহাম্মদপুর ও কাফরুল এলাকায় কয়েক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের লাশে শুক্রাণুর উপস্থিতি পায় ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ। এরপর সেগুলো পরীক্ষার জন্য কয়েকটি এইচভিএস (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে আলামতসমূহের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়। কয়েকজন নারীর লাশে পাওয়া শুক্রাণু একই ব্যক্তির বলে ডিএনএ পরীক্ষায় তথ্য উঠে আসে। নড়েচড়ে উঠে পুলিশের অপরাধী তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির ধারণা ছিল এসব নারীর মৃত্যুর পেছনে কোনো সিরিয়াল রেপিস্ট অথবা সিরিয়াল কিলারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে লাশে আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় তদন্ত নতুন মোড় নেয়। মর্গেই মৃত নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারে সন্দেহে শুরু হয় সিআইডির
তদন্ত। বিষয়টি
তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই মর্গে পাহারার দায়িত্বে থাকা মুন্না ভগতই এ কাজ করত। অবশেষে সিআইডি তাকে গ্রেফতার করেছে। মুন্না সিআইডির কাছে স্বীকার করেছে গত কয়েক বছরে সে অর্ধশতাধিক মৃতদেহ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে এ রোগটির নাম নেকরোফিলিয়া। এটি এক ধরনের মানসিক রোগ বলছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেজাউল হায়দার জানান, মুন্নার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ বাজারে। মুন্না গত দুই-তিন বছর ধরে মর্গে ডোমের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। তার বাবার নাম দুলাল ভগত। সে আরও দুই-তিন জনের সঙ্গে মর্গের পাশেই একটি কক্ষে রাতে থাকত। সে ওই মর্গের ডোম যতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। দুই-তিন বছর ধরে সে মর্গে রাখা লাশের সঙ্গে অপকর্ম করে আসছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না অর্ধশতাধিক মৃতদেহের সঙ্গে অনাচারে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য আনা লাশ পরবর্তী দিনে কাটার অপেক্ষায় মর্গে রেখে দেওয়া হতো। এ পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি কর্মকর্তারা মর্গে কর্মরত ডোমদের ওই মামলার ময়নাতদন্তকালীন গতিবিধি পর্যালোচনা করে দেখেন, হাসপাতালের ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত আলোচ্য পাঁচটি ঘটনার সময় রাত্রিকালীন লাশ পাহারা দেওয়াসহ মর্গে অবস্থান করে। তদন্তে উঠে আসে, চলতি বছরের গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটায় ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত। তদন্তকালেই ঘটনার গভীরতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ডিএনএ ল্যাবে পরীক্ষায় যাদের শরীরে শুক্রাণুর আলামত মিলেছে তাদের বয়স ১২ থেকে ২০ বছর।
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেজাউল হায়দার বলেন, বিকৃত মানসিকতা থেকে এরকম কাজ করেছে মুন্না ভগত। সে এসব নোংরা কাজ করার কথা স্বীকারও করেছে। ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত দুই-তিন বছর ধরে এই কাজ করছে। রাতে সে মর্গেই ঘুমাত। রাতে ওই হাসপাতালে আসা লাশ সে পাহারা দিত। রাতে কোনো তরুণীর লাশ এলেই সে মেতে উঠত বিকৃত যৌনাচারে। আত্মহত্যাকারী ১২ থেকে ২০ বছর বয়সি মেয়েরাই ছিল মুন্নার বিকৃতির লক্ষ্য। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনার পরে পাওয়া আলামতের ডিএনএ গবেষণা করে সবগুলোয় একই ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া যায়। মুন্না ওই হাসপাতালের স্টাফ না হয়েও মামার সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য ও গোপনে তথ্য সংগ্রহ করলে অনুসন্ধানে ডোমের সহযোগী মুন্না ভগত এ অপরাধে জড়িত আছে মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায়। বিষয়টি টের পেয়ে মুন্না ভগত গা ঢাকা দিলে সিআইডির সন্দেহ ঘনীভ‚ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করে সিআইডি। তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার মুন্নাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে মুন্না। বিশদ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ১০ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: