অর্থনীতি

বিআরবি থেকে শ্রমিক ছাঁটাই, জামানতের কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ

Written by CrimeSearchBD

কুষ্টিয়ার বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজে শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত আছে। করোনার সময় প্রণোদনার টাকার জন্য বিআরবি চেয়ারম্যান ব্যাংকগুলোর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলেও শ্রমিক ছাঁটাই করছে।

করোনা হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় এসকল শ্রমিকদের ছাটাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে ফ্রেরুয়ারি মাসের শেষে এক সাথে ছাঁটাই করা হয় ৩০ জন কর্মচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৯ ফ্রেরুয়ারি ৩০ জন স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া শ্রমিক ছাটাই করে বিআরবি গ্রুপ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক জানান, শিফটিং ডিউটির আওতায় এসব শ্রমিকরা ২৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার চাকরিতে যান। একে একে ৩০ জন শ্রমিককে আটকিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের কক্ষে বসিয়ে রাখেন। শ্রমিকরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদেরও দুইজন করে নিয়ে আসা হয় প্রশাসনিক ভবনের গেটে। এরপর তাদের অব্যাহতি পত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে
কারখানার গেটের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের পাওনাদি বিষয়ে অফিস চলাকালীন সময়ে প্রধান কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে যোগাযোগ করতে। কিন্তু বেশ কয়েকমাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন শ্রমিকও তাদের জামানতের টাকা ফেরত পায়নি।

এদিকে গত ২৬ মার্চ থেকে দফায় দফায় সরকারি সাধারণ ছুটি বেড়ে ১০ মে পর্যন্ত হয়। এ সময় কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত নোটিশে কর্মকর্তা কর্মচারীদের উদ্দেশে বলা হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্ব-স্ব আবাসস্থলে থাকাসহ ভ্রমণ ও জনার্কীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলতে। শ্রমিক কর্মচারীরা বলছেন, স্ব স্ব আবাসস্থলে অবস্থান করেও করোনার এই দুর্যোগের সময় বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা।

বিআরবি গ্রুপের সারা বাংলাদেশে দুই শতাধিক বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। গত ১১ মে প্রতিষ্ঠানটিরপ্রধান কার্যালয়সহ বিক্রয় কেন্দ্রগুলো এক যোগে খোলা হয়। এসময় প্রধান কার্যালয়ে ১ শ শ্রমিককে কাজে যোগদান করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তাদের জানানো হয়, তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলেননি।

এদিকে বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৩ শতাধিক কর্মচারীকে কাজে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলেননি। এদিকে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরিতে যোগদানের সময় জামানত বাবদ অর্থ নেয়া হয়। ১ লাখ থেকে শুরু করে ৩ লাখ জামানত আছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের। চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা কেউই জামানতের টাকা ফেরত পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

পান থেকে চুন খসলেই চাকরি যায় বিআরবির শ্রমিকদের। চুরি মামলাও আছে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অনেক। একের পর এক মামলা আর পুলিশী হয়রানির ভয়ে শ্রমিকরা চাকরিচ্যুত হওয়ার পরে কোনো রকম কথা বলেন না। কেউ লেবার আইনে মামলাও করতে যাননি।

শ্রমিকদের হিসেব মতে, প্রায় একশত বিশ কোটি টাকা শুধু শ্রমিকদের জামানতের টাকাই আছে বিআরবি চেয়ারম্যান মজিবর রহমানের কাছে।

এ ছাড়া ব্যাংক লোনের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক ইমারত গড়ে যাচ্ছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই করা, শ্রমিকদের জামানতের টাকা ফেরত না দেওয়া একটি স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে বিআরবির চেয়ারম্যানের। কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ, পলিমার,ফ্যান, এ্যালমোনিয়ামসহ বিভিন্ন বিভিন্ন ইলেকট্রিক সরঞ্জাম উৎপাদন করে বিআরবি গ্রুপ।

এব্যাপারে বিআরবি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সময়রে আলোকে জানান, শ্রমিক ছাঁটাই হয়নি। তার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছেন তারা ষড়যন্ত্র করছেন।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: