জাতীয় সংবাদ

বাদ পড়া টেকনোলজিস্টদের দ্রুত নিয়োগের দাবি বিএমটিপি’র

Written by CrimeSearchBD

দেশে যখন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে মহামারি আকার ধারণ করে তখনই স্বাস্থ্যখাতে জনবল সঙ্কটের কারণে হিমশিম খেতে হয়েছিল সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে বাড়তে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার চাপও বেড়েছিলো, এখনো বাড়ছে। যে হারে করোনা রোগী বাড়ছে সে হারে নমুনা সংগ্রহের সুযোগ ও সুবিধা ছিলনা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অপ্রতুলতার কারণে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরাসরি সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত না থেকেও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের নেতা কর্মী সহ সারা দেশের স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টেকনোলজিস্টগণ। দিন দিন এ সংখ্যা বেড়েছে, যাঁরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেশের এ সংকটময় সময়ে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে ও আক্রান্ত রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বিশেষ বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির নির্দেশে সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও এঞ্জিও প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেখানে ১৫৭ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। করোনা মোকাবেলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্যখাতে ডাক্তার-নার্সদের ন্যায় ১২০০ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত ১২ বছর যাবত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ বন্ধ থাকার কারণে করোনা মহামারী রোধে সারাদেশে একাংশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে। সেই স্বেচ্ছাসেবকদের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে অগ্রাধিকার দিবে বলেও জানান কর্তৃপক্ষ। অথচ ১২০০ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বানচালের জন্য কিছু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নামধারী জামাত-ছাত্রদল, ছাত্র-শিবির চক্র প্রায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করে। যারা এসব কাজে যুক্ত তারা সবাই বিভিন্ন মেডিকেল টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের ছাত্রদল, ছাত্র-শিবিরের সক্রিয় কর্মী। বিএনপি পন্থী সংগঠন এম. ট্যাব. এটার সরাসরি মদদ দিচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের কাজকে এভাবে জিম্মি করে আটকিয়ে সরকারের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে তারা।

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ বন্ধ করা নিয়ে চলছে বিপিএসএমটিএ’র ষড়যন্ত্র। তারা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে বাঁধা প্রদান করে করোনা সনাক্তকরণ ব্যাপকভাবে ব্যাহত করে করোনা মোকাবেলায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। করোনাকে জিম্মি করে তারা দেশের মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
২০১৩ সালের প্রকাশিত নিয়োগটা মামলা দিয়ে স্থগিত করে রেখেছে জামাত-শিবির পন্থী সংগঠন বেকার এন্ড প্রাইভেট সার্ভিসেস মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (বিপিএসএমটিএ)। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে নিয়োগ বানচাল করার চেষ্টা করছে। বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ এই বেকার এন্ড প্রাইভেট সার্ভিসেস মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (বিপিএসএমটিএ) সরকারের কাজের বিরোধীতা করছে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (বিএমটিপি) এর সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান বলেন, করোনা মহামারিতে যে পরিস্থিতি ছিলো তাতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজটি ঠিক মতো হচ্ছিলোনা অপ্রতুল মেডিকেল টেকনোলজিস্টের কারণে। সেসময় যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে জীবন বাজী রেখে রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ করছে তারাই প্রকৃত করোনাযোদ্ধা। তারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এগিয়ে না আসলে আজ স্বাস্থ্যখাতের ও দেশের অনেক ক্ষতি হতো। দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেত। তাই সেসকল স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা রাজস্বখাতে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য।

তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে স্বাগত জানান। ১৫৭ জন স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের মতো সারাদেশে বাদপরা সকল যোগ্য ও নিয়মনীতির আওতায় থাকা স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের রাজস্বখাতে দ্রুত নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে আহ্বান জানান।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: