শিক্ষা

প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

Written by CrimeSearchBD

তিনটি গ্রæপ মিলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করত। এদের মধ্যে একটি গ্রæপ ছাত্র সংগ্রহ করত। একটি গ্রæপ প্রশ্নপত্রের সমাধান তৈরি করত এবং আরেকটি গ্রæপ পরীক্ষার কেন্দ্রে দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত ছিল। এভাবেই তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ও ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল। চক্রটি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতাররা হলোÑ হাসান মাহমুদ, রাশেদুজ্জামান সজীব, রাকিবুল হাসান শান্ত, মানিক কুমার প্রামাণিক, তার সহযোগী সাদিকুল ইসলাম, শ্রী রিপন কুমার ও নাফিউল ইসলাম তাহসিন। তাদের মধ্যে দুজন রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং একজন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও তেজগাঁও কলেজের ছাত্র বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্ত ডিআইজি
মো. কামরুল আহসান এসব তথ্য জানান। প্রশ্নফাঁস চক্রের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তেজগাঁওয়ের সরকারি বিজ্ঞান কলেজের কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম তাহসিনকে মোবাইলসহ আটক করা হয়। আটক তাহসিনের কাছে পাওয়া ডিভাইসের তথ্য পর্যালোচনা করে গত ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে হাসান মাহমুদ এবং রাশেদুজ্জামান সজীবকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে সজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সজীব সিআইডিকে জানিয়েছে, সে সাইফুরসের ইংরেজি শিক্ষক ছিল। এই চক্রে তার কাজ ছিল বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ইংরেজি অংশের সমাধান করা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রাকিবুল হাসান শান্তর মাধ্যমে সজীব এই চক্রে যুক্ত হয়। সজীবের দেওয়া তথ্যমতে, ২৭ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মতিঝিলে দিলকুশা বক চত্বর থেকে রাকিবুল হাসান শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার শান্ত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স পাস করে। সে চলতি বছরে জনতা ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেয়। সেও রাশেদুজ্জামানকে দিয়ে প্রশ্নপত্র সমাধানের কথা স্বীকার করে আদালতে জবাবনবন্দি দিয়েছে।
কামরুল আহসান আরও বলে, পরে রাকিবুল হাসানের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে নানা তথ্য মেলে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজশাহীর মোহনপুর থানা এলাকা থেকে মানিক কুমার প্রামাণিক, তার সহযোগী সাদিকুল ইসলাম এবং শ্রী রিপন কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। মানিক কুমার প্রামাণিক রাজশাহীতে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যারা জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরিতে যোগ দিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম, সাইবার ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ, এসএম আশরাফুল আলম এবং অর্গানাইজড ক্রাইমের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জিসানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: