করোনা ভাইরাস

প্রথম মৃত্যুর এক বছর

Written by CrimeSearchBD

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি সেখানে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। চীনের স্বাস্থ্য বিভাগ ওই সময় জানায়, অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬১ বছর বয়সি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া। বিবিসি।
মৃত ওই বৃদ্ধ উহানের মাংসের বাজারে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এই মাংসের বাজারই ভাইরাসের উৎস বলে শোনা গিয়েছিল এক সময়ে। পরে অবশ্য অন্য তত্ত্ব উঠে আসে। চীন ক্রমাগত দাবি করে, চীনে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়লেও দেশটি করোনাভাইরাসের উৎস নয়। তা হলে উৎস কোথায়! এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও অজানা। আদৌ কোনো দিন জানা যাবে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। এই ভয়াবহ মহামারির অনেক কিছুই এখনও অজানা। শুধু ভাইরাসের উৎস নয়, ভাইরাসের চরিত্র নিয়েও সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। মূল প্রশ্ন, ভাইরাসটি কীভাবে প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের দেহে ছড়াল? বিজ্ঞানীদের ধারণা, ২০১৯ সালের শেষ দিকে উহানের হুয়ানন সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। ওই বাজারে বন্য প্রাণী বিক্রি করা হতো। অজ্ঞাত প্রজাতির বাদুড় থেকে ভাইরাসটি কোনোভাবে মানবদেহে এসেছে বলে ধারণা তাদের। কিন্তু পরে কিছু ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও উঠে আসে। আমেরিকার বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, উহানের গবেষণাগার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।
চীনের কর্তৃপক্ষ প্রথমে বলেছিল, উহানের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকেই করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। কিন্তু দেশটির প্রকাশিত গত বছরের জানুয়ারি মাসের তথ্য ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে দেখা গেছে, ওই বাজারের সঙ্গে করোনার খুব একটা যোগসূত্র নেই। অর্থাৎ ভাইরাসের উৎস অন্য কোথাও। তবে এরপর চীনা কর্তৃপক্ষ আর তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ব্যাপারে সমালোচিত হয়েছে চীন। এমনকি শুরুতে ভাইরাসের ব্যাপারে চুপ থেকে সচেতন হওয়ার সুযোগ তৈরির পথ রোধ করারও অভিযোগ রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর লকডাউনে চলে যায় উহান শহর। এখন পর্যন্ত চীনে করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা ৮৭ হাজার ৫৩৬ জন এবং মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জন। সে দেশে আক্রান্তদের মধ্যে সেরে গেছে ৮২ হাজার ২২৯ জন এবং বর্তমানে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে ৬৭৩ জন।
এদিকে বছর পেরিয়ে যাওয়া করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিশ^জুড়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পেরিয়ে গেল ৯ কোটি। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়ের টালিতে হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সারা বিশে^ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ কোটি ৬‌লাখ ৮৯ হাজার ৭৪৮ জন। একই সময়ে করোনায় মারা গেছেন ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১১ হাজার ৩৮০ জন।
এমন এক সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯ কোটির ঘর ছাড়াল যখন যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক দুটি নতুন ধরন নিয়ন্ত্রণে লড়তে হচ্ছে বিভিন্ন দেশকে। একই সঙ্গে ভাইরাসের প্রকোপ কমিয়ে আনতে বিশ^জুড়ে চলছে বড় আকারে টিকাদানের প্রস্তুতি।
জনস হপকিন্সের তথ্য বলছে, বিশ^জুড়ে শনাক্ত রোগী দ্বিগুণ হতে সময় লেগেছে মাত্র ১০ সপ্তাহ। অক্টোবরের শেষ দিকে যেখানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ৪ কোটি, এখন তা পৌঁছেছে ৯ কোটির ঘরে। আক্রান্তের সংখ্যায় সবার ওপরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২ কোটি ২৩ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাতেও যুক্তরাষ্ট্র সবার চেয়ে এগিয়ে, এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে।
সংক্রমণের সংখ্যায় ভারত এখন বিশে^ দ্বিতীয়, সেখানে ১ কোটি সাড়ে ৪ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে দেড় লাখ মানুষের। মৃতের সংখ্যায় বিশে^ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল, সেখানে ২ লাখ ৩ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাস। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ। দুই মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে করোনাভাইরাসের যে নতুন ধরনটি ছড়াতে শুরু করেছিল, সেটি মেক্সিকো, ফ্রান্স ও রাশিয়াতেও পৌঁছে গেছে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: