সারাদেশ

নিষেধাজ্ঞায় থামেনি উদযাপন

Written by CrimeSearchBD

নতুন বছরকে বরণ করতে থার্টিফার্স্ট নাইটে রাজধানী জুড়ে ছিল আনন্দ উৎসবের উন্মাদনা। যদিও এই উন্মাদনাকে ঠেকানোর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু রাজধানীবাসীর বেশিরভাগই তা যথাযথ মানেনি। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই অনেকে বাসা-বাড়ির ছাদে ও মহল্লার রাস্তায় মুহুর্মুহু আতশবাজি ও পটকা ফাটিয়েছে। বাড়ির ছাদ থেকে ওড়ানো হয় ফানুস। ফানুস আর আতশবাজিতে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর আকাশ আলোকিত হয়। এ ছাড়াও রাজধানীর ক্লাবগুলোতে চলেছে নাচ, গান ও ডিজে পার্টির অনুষ্ঠান। এদিকে বর্ষবরণের উন্মাদনার মধ্যেই বিষাদের ঘটনাও ঘটেছে রাজধানীতে। নববর্ষকে বরণ করতে গিয়ে রাজধানীর দক্ষিণখান ও হাজারীবাগে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। মৃতরা হলোÑ অনন্ত দাশ (৪০) ও সোহাগ (২২)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, মদ্যপানের কারণে অনন্ত ও সোহাগের মৃত্যু হয়েছে। যদিও অনন্তের পরিবারের দাবি, মদ্যপানে তার মৃত্যু হয়নি। জানা যায়, মহামারি করোনাসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবারে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ১৩ দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। হোটেল-ক্লাব ছাড়াও বাসাবাড়ির ছাদেও এবারে একত্র হয়ে হইচই-উন্মাদনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট ও মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছিল সাদা পোশাকের পুলিশও। এবার রাজধানীর নান্দনিক হাতিরঝিলে ঘোরাফেরা ও অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে বাসায় ফিরতে বাড্ডা, গুলশান, রামপুরা, বনশ্রী, হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকার অধিকাংশ মানুষকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে বাইরে এত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অভিজাতপাড়ার ক্লাবগুলোর ভেতরে প্রবেশে তেমন কোনো বাধা ছিল না। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে ডিজে পার্টি, নাচ ও গানের অনুষ্ঠান।
নববর্ষকে কেন্দ্র করে খোলা স্থানের পাশাপাশি বাসার ছাদেও অনুষ্ঠান করতে
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তার মধ্যেই বনানী, মিরপুর, উত্তরা, রামপুরা, বনশ্রী, পল্টন, মগবাজার, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও পুরান ঢাকাসহ গোটা রাজধানীতেই অধিকাংশ বাড়ির ছাদে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আতশবাজিও চলে ব্যাপকহারে। রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর আতশবাজির ঝলকানিতে আকাশ রঙিন হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে পটকার শব্দে প্রকম্পিত হয়েছে পুরো শহর। নিজ নিজ উদ্যোগে শহরবাসী ফানুস উড়িয়েছে। একসঙ্গে ফানুস ওড়ানোয় রাতের আকাশে যেন জোনাকির মিছিল নেমেছিলÑ এমন মন্তব্য মিরপুরের বাসিন্দা লিনা হালদারের। তিনি বলেন, মিরপুরের আকাশ ছিল ফানুসে পরিপূর্ণ।
গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে নববর্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া রামপুরার যুবক শুভ জানান, রাত সাড়ে ১১টা থেকে ওই হোটেলে ছেলে ও মেয়েদের নাচের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। ধানমন্ডির বাসিন্দা আজহার উদ্দিন বলেন, মানুষের আনন্দের জায়গাটা নিষেধাজ্ঞার জালে বন্দি করা যায় না। ফলে নগরবাসী নিজ নিজ বাসার ছাদে ঠিকই ফানুস উড়িয়েছে ও আনন্দ উপভোগ করেছে।
মদ্যপানে দুজনের মৃত্যু : ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, থার্টিফার্স্ট নাইটে অতিরিক্ত মদ্যপানে মৃত্যু হয়েছে অনন্ত দাশের। তবে মৃতের ছোটভাই শিবা চন্দ্র দাশ জানান, তার ভাই রাজধানীর গণপূর্ত অফিসে ক্লিনার হিসেবে চাকরি করত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সে অফিস থেকে হাজারীবাগের বাসায় ফেরে। এরপর বৌ, বাচ্চা এবং শ্যালক-শ্যালিকাদের নিয়ে নর্ববর্ষ উদযাপনের জন্য বাসার ছাদে গিয়ে ফানুস ওড়ায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘরে ফিরে আলু ও করোলা ভাজি দিয়ে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমানোর কিছুক্ষণ পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। শিবা দাশের অভিযোগ, হাসপাতালে কর্মরত এক নারী চিকিৎসক তাকে তার ভাইয়ের ব্যাপারে জানতে না চেয়ে তার ব্যাপারে প্রশ্ন করতে থাকেন। তারা তাকে চিকিৎসা না দিয়ে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করতে থাকেন। সবশেষে তার ভাইয়ের ইসিজি পরীক্ষাকালে অনন্ত মারা গেছে বলে ঘোষণা দেন চিকিৎসক। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমার ভাই পুরোহিত ছিলেন। তিনি মাছ মাংসও খেতেন না। আর তিনি মদ্যপান করেছেন বলে ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক, যা খুবই আপত্তিকর। তার দাবি, চিকিৎসক ধারণাবশতই ‘অ্যালকোহল’ শব্দটি লিখেছেন। তবে তারা বিষয়টি হাজারীবাগ থানায় জানিয়েছেন।
হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুদ রানা বলেন, অনন্তর লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে তিনি মদ্যপানে মারা গেছেন কি না।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সোহাগসহ কয়েকজন রাজধানীর আশকোনা এলাকায় থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে মদপান করে। সোহাগ অসুস্থ হয়ে পড়লে ভোর পৌনে ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেন তার বাবা ফরিদ মিয়া। সেখানে চিকিৎসক সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, থার্টিফার্স্ট নাইটে অতিরিক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: