রাজনীতি

নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির খেলা

Written by CrimeSearchBD

নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির খেলায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, উপনির্বাচনে তারা নামকাওয়াস্তে প্রার্থী দেয়, খুব হইচই করে, তারপর ইলেকশনের দিন দুপুরবেলা তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। আমি বলব এটা তাদের একটা পরিকল্পিত খেলা। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমÐলীর

সভায় যোগ দিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভাপতি গণভবন থেকে ভিডিও কলে সভায় যুক্ত হন।
বিএনপির মিথ্যাচারের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, উপনির্বাচনের দিন ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে তারা আগুন দিয়েছে তা প্রমাণিত। শেখ হাসিনা বলেন, তারা মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে। বিভিন্ন উপনির্বাচনে তারা প্রার্থী দেয়। নির্বাচনের আগে খুব হইচই করে। কিন্তু নির্বাচনের দিন দুপুরে পরাজয়ের ভয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। মূলত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারা এরকম করে।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমালোচনা হলে ভালো, এতে সরকারের কার্যক্রমের ভালোমন্দ আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু অপপ্রচার কেন? সমালোচনায় আমাদের আপত্তি নেই, ভালো কাজ করলে সেটা একটু স্বীকার করবেন। আপনারা যা ইচ্ছা লিখতে পারেন, এতে হয়তো পত্রিকার কাটতি বাড়বে। হয়তো এনজিওর জন্য বিদেশি ফান্ড আসবে। কিন্তু এই ফান্ড কোথায় যায়, ভবিষ্যতে এটার হিসাব নেওয়া শুরু করব।
এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। সম্মেলন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমÐলীর দ্বিতীয় সভা বসে। করোনা সঙ্কটের এই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গণভবন থেকে এতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সভায় দেশ ও মানুষের জন্য আওয়ামী লীগের অবদানের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা অনেক। দ্রæত সম্মেলন করাসহ তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে দেন বিভিন্ন নির্দেশনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ আমাদের ভোট দিচ্ছে একটাই কারণে, সেটা হলো জনগণ উপলব্ধি করতে পেরেছে যে আওয়ামী লীগ এলে জনগণের উপকার হয়। আওয়ামী লীগ একটা সংগঠন, আমাদের পূর্বের প্রস্তুত ছিল আমাদের অর্থনীতি কী হবে, আমরা সামাজিক উন্নয়নের জন্য কী করতে পারব। আমরা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কী করব, দেশের উন্নয়ন কীভাবে হবে সেদিকে কিন্তু আমরা কাজ করেছি। এটা আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে চিন্তা করতে হবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কিছু পাওয়াটা বড় কথা না, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম সেটাই বড় কথা।
করোনাভাইরাস শিখিয়েছে দেশেই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব : করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমি এখন ঘরের মধ্যে একা, তাই মাস্ক পরছি না। কিন্তু লোকজন এলেই মাস্ক পরি। লোকজনের সামনে এলেই মাস্ক পরতে হবে।
মহামারি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ১ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগাম ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে সরকার। করোনাভাইরাস-পরবর্তী সময়ে যেন খাদ্য সঙ্কট তৈরি না হয়, এ জন্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্য সঙ্কট যেন তৈরি না হয়, এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমাদের একটি পরিকল্পনা ছিল। আমরা প্রত্যন্ত এলাকাতেও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। এমনও সময় ছিল যখন হাঁচি দিলেও অনেকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যেত। করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে দেশেই চিকিৎসাসেবা নেওয়া সম্ভব।
করোনার সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক দেশের প্রবৃদ্ধি মাইনাসে চলে গেছে, কিন্তু আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। করোনার মধ্যেও ব্যাংকগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকেই ছোটখাটো ব্যবসা করেও বেঁচে থাকতে পারছে।
জনগণের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে জানিয়ে দলের সভাপতি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পাওয়াটা বড় নয়, বরং কী দিতে পারলাম সেটাই বড়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। তিনি তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন।
করোনায় জেলখানার মতো আছি : করোনাভাইরাসের কারণে গণভবনে কারাবন্দির মতো জীবন অতিবাহিত করছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনেকদিন পর সুযোগ পেলাম, অনেক বেশি বকবক করলাম। অনেক বেশি কথা বললাম। এখন আমি একা। কিন্তু জেলখানার মতোই আছি। সেটাই আমার দুঃখ। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ছিলাম ছোট জেলে, এখন বড় জেলে আছি।
করোনা পরিস্থিতিতে বন্দির মতো থাকলেও সব কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যখনই সভা করবেন বা কথা বলবেন, আমাকে লিংক দেবেন। আমি যোগাযোগ করতে পারব। ভিডিওকলে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করতে চান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগই তো আমার পরিবার।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সবসময় জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলবেন। আর যারা সমালোচনা করেন তাদের আমি বলব, সমালোচনায় আমার আপত্তি নেই। কিন্তু একটু ভালো কাজ করলে, সেটাতেও খুশি থাকেন। যেটুকু করেছি সেটুকুর কথাও একটু বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভায় সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে। ফেসবুক-ইউটিউবে গুজবে অপপ্রচার চলছে। এসবের ওপর ভিত্তি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এ পার্টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পার্টি। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। যেকোনো অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনার বাইরে যাওয়ার আমাদের সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কার প্রসঙ্গ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বিশ^ করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যস্ত। আমাদের এখনই আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, এর কোনো ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। আমরা দলীয়ভাবে সচেতনতা কার্যক্রম চালাব। আমি আমাদের সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে এ বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছি। মহানগর-জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত ইউনিটগুলো সচেতনতা কার্যক্রম চালাবে।
দুয়েক দিনের মধ্যে উপকমিটি দেওয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো একজন একাধিক পদে থাকতে পারবে না। মহানগরসহ সহযোগী সংগঠনগুলোতে যদি কোনো ব্যক্তি সদস্য পদেও থাকেন তিনি সাব-কমিটিতে থাকতে পারবেন না।
তার আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সম্পাদকমÐলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান ও উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: