রাজনীতি

তাপস-খোকন বিবাদ : ডাক পড়ছে শীর্ষ মহলে

Written by CrimeSearchBD

ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন এবং বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিবাদে বিব্রত ক্ষমতাসীন দল ও সরকার। ক্ষমতাসীন দলের কেউ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক ও বর্তমান দুই মেয়রকে আজকালের মধ্যে ডাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি সমাধানে সেখানেই দুজনকে দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি।
সরকারের সূত্র জানায়, বিবাদে জড়ানো সাবেক ও বর্তমান মেয়র দুজনই ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সদস্য। সাঈদ খোকন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বিব্রত। দলের নেতা ও সরকারের দায়িত্বশীলরাও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তদারকি চান। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে না।
দলের নেতারা বিষয়টিকে ‘স্পর্শকাতর’ আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। তারা বলছেন, এই দুজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো বিষয়ে যদি তাদের দ্বিমত থাকে, ভিন্নমত থাকে সেটা তারা পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করতে পারেন। অথবা পার্টির উচ্চতর ফোরামে উত্থাপন করতে পারেন। যেহেতু তাদের বেশ কিছু বিকল্প আছে, প্রকাশ্যে এই বিতর্কটা খুব শোভন নয়। পার্টির ডিসিপ্লিন মানতে হলে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয় বাইরে যাবে না।
বিবাদের শুরু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করার পর। রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের দোকানগুলো নকশাবহির্ভূতÑ এমন অভিযোগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ৯১১টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
কিন্তু সেই সময়ে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে দেওয়া টাকার বিনিময়ে এসব দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা কাগজপত্র দেখান যেখানে পাঁচটা পে-অর্ডারের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয় সিটি করপোরেশনকে। ব্যবসায়ীরা এসব পে-অর্ডার আদালতে দাখিল করলে আদালত সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করা ব্যবসায়ীদের করা মামলাটি গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই সাবেক এবং বর্তমান দুই মেয়রের মধ্যে বিবাদ সামনে চলে আসে। সাঈদ খোকন একাধিকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই সব ঘটনার জন্য বর্তমান মেয়রকে দায়ী করেন।
ডিসেম্বরে গণমাধ্যমকে সাঈদ খোকন বলেন, সিটি করপোরেশন যে অভিযান পরিচালনা করেছে সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ, দোকানদার যারা আছেন, মার্কেট যেখানে আছে সেটা বৈধ। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে এসব দোকানদারকে কাগজপত্র দিয়ে এসেছি, বকেয়া রশিদ দিয়ে এসেছি। আমি আদালতের নির্দেশে আমাদের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দোকানগুলোর নকশা সংশোধনপূর্বক দোকানদারদের টাকা জমার আহ্বান জানিয়েছি। তাদের কাছে ৭-৮ বছরের টাকা বকেয়া ছিল। আমরা সেই বকেয়া টাকা বুঝে নিয়ে রশিদ দিয়েছি এবং তাদের ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছি।
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য বর্তমান মেয়রকে দায়ী করেন সাঈদ খোকন। শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারবর্গের ব্যানারে একটি মানববন্ধন হয়। সেই মানববন্ধনে সাঈদ খোকন আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন তাপসের বিরুদ্ধে। এদিকে সাঈদ খোকনের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিষয়ে রোববার সাংবাদিকরা মেয়র তাপসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোনো কিছু বলে থাকেন, সেটার জবাব আমি একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে দেওয়া সমীচীন মনে করি না। যে অভিযোগ আনা হয়েছে কোনোভাবেই কোনো বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য নয়।
২০২০ সালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় ঢাকা-১০ আসনের তিন বারের সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে। তাপসের ছেড়ে দেওয়া আসনে সাঈদ খোকন নির্বাচন করতে চাইলে সেটাও তাকে না দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র।
আওয়ামী লীগের আলোচিত এ দুই নেতার বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দুই নেতা পরস্পরকে ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। অবশ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন, তাপসকে আক্রমণ করেছেন, কোনো রাখঢাক ছাড়াই। এমনকি মেয়র হিসেবে তাপসের থাকার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেছেন। সাঈদ খোকন তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপন করেছেন।
সাঈদ খোকনের বক্তব্যে বর্তমান মেয়র অনেকটা সহনশীল। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মানহানির অভিযোগ তুলে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। গত শনিবার সাঈদ খোকন মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন, তার দুদিনের মাথায় দুটি মামলা হয়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জানান, সারোয়ার আলম এবং আনিসুর রহমান নামে দুজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দুটি মানহানির মামলা করেন।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: