জাতীয় সংবাদ

ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার প্রবর্তনের উদ্যোগ

Written by CrimeSearchBD

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি, দল ও প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রেরণা ও
স্বীকৃতি হিসেবে খুব শিগগির ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার’ নামে একটি জাতীয় পুরস্কার প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে শুধু অনুপ্রেরণা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা জোগানোর বিষয়টি। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ‘রূপকল্প-২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বাংলাদেশকে উন্নত বিশে^র সারিতে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়ে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করা হয়। আর এই দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১২ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস’-এর পরিবর্তে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, প্রতিবছর ১২ ডিসেম্বর এই পুরস্কার দেওয়া হবে। আর এই পুরস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কারের’ একটি নীতিমালা তৈরি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগির মন্ত্রিসভা কমিটিতে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও কারিগরি। আবার সাধারণের মধ্যে রয়েছেÑ তথ্য ও প্রযুক্তি যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্পের বিকাশে অবদান, অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান, কেন্দ্রীয় কিংবা মাঠ পর্যায়ে কিংবা বাংলাদেশ মিশনে ই-সার্ভিস বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন। কারিগরি ক্ষেত্রে রয়েছেÑ সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার বা নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, বাংলাদেশে সমৃদ্ধি আনার ক্ষেত্রে ফ্রন্টিয়ার বা ইমার্জিং টেকনোলজির ব্যবহার। পুরস্কারের শ্রেণি বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ছয়টি করে মোট ১২টি পুরস্কার দেওয়া হবে। সাধারণ ও কারিগরি পৃথক দুটি ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আলাদাভাবে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, শ্রেষ্ঠ দল ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান থাকছে। এই তিন শ্রেণিতে একটি করে মোট ১২টি পুরস্কার প্রদান করা হবে। পুরস্কার হিসেবে থাকবে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ। ব্যক্তিগত অবদানের ক্ষেত্রে নগদ ২ লাখ, দলগতভাবে ১ লাখ টাকা ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১টি ল্যাপটপ থাকছে। তবে সবাই সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট পাবেন। জেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ছয়টি করে মোট ১২টি পুরস্কার থাকবে। সাধারণ ও কারিগরি পৃথক দুটি ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আলাদাভাবে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, দল ও প্রতিষ্ঠানকে একটি করে মোট ১২টি পুরস্কার দেওয়া হবে। এখানে ব্যক্তি ক্ষেত্রে নগদ জনপ্রতি ১ লাখ, দলগত জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আর প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একটি ল্যাপটপ দেওয়া হবে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় আনা হবে। আবার আগের বছরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাথমিক প্রস্তাবনা সরকারি পর্যায় ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেলা বাছাই কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। একইভাবে বেসরকারি পর্যায়ে এই নিয়ম পালন করতে হবে। জেলা পর্যায়ে বাছাই কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক। এই কমিটি হবে ১৩ সদস্যের।
আর মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সভাপতি হবেন সচিব। যেখানে ৭ সদস্যের প্রতিনিধি থাকবেন। জাতীয় পর্যায়ে সভাপতি হবেন আইসিটি বিভাগের সচিব। এই কমিটিতে ২১ জন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ৩৪ সদস্যের জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী। এই জাতীয় কমিটি প্রয়োজন মনে করলে অনুসন্ধান ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে পারবেন। ব্যক্তি থেকে শুরু করে দলগত পুরস্কারের জন্য একটি মূল্যায়ন ছক থাকবে। যেখানে ২৫টি বিষয়ের ওপর মোট ১০০ নম্বর রাখা হবে। মূল্যায়ন ছকে উদ্যোগটির বিবরণ থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অবদান ও পরিবেশবান্ধব কি না তা নিয়ে নম্বর রাখা হবে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: