জাতীয় সংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখতে চায় বিশ^ব্যাংক

Written by CrimeSearchBD

সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশে দুবার বন্যা হলো। প্রথমবার ছিল শুধু বন্যা। আর দ্বিতীয়টি ছিল দক্ষিণাঞ্চলে জোয়ারের পানির প্লাবন। এবারের বন্যায় নদীভাঙন ছিল বেশি। এই দু’দফায় বন্যার ফলে কৃষি থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি, প্রাণী ও পশুসম্পদ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে যথেষ্ট। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৯৭২ কোটি ৭৫ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ১২ লাখ ৭৩ হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেই ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ হাজার ৪৩৪টি বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। ৪০টি বাঁধে ধস নামে। ২৪টি জেলায় ১২০টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৪৪৯ কিলোমিটার।
দুই দফা বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির খবর উন্নয়ন সহযোগী বিশ^ব্যাংকের দৃষ্টি এড়ায়নি। সবকিছু নিজের চোখে পরখ করেছে সংস্থাটি। বন্যার এই ধকল কাটিয়ে উঠতে আগামী দিনে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করার আশ^াস দিয়েছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
তবে এর আগে তারা সরেজমিনে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়ে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে চায়। এরই ধারবাহিকতায় বিশ^ব্যাংকের পরামর্শক হারিস খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কাল ১৬ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়ালে সভা করবেন। এ প্রতিনিধিদলে যারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন তাদের বেশিরভাগ জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস জানান, বাংলাদেশ প্রথমে জলবায়ু ট্রাস্ট গঠন করেছে। এ ট্রাস্টের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করা। তবে এই ট্রাস্টের অর্থ মূলত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, তারা প্রথমেই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সঙ্গে সভা করবেন। বাংলাদেশে সম্প্রতি বন্যায় নদীভাঙনের যে প্রবণতা তার কারণ সম্পর্কে অবহিত হবেন। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণের পয়েন্টগুলো সম্পর্কে জানতে চাইবেন। সম্প্রতির বন্যায় পদ্মা সেতুর বা দিকের তীরের ল্যান্ডিং পয়েন্ট থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার ভাটিতে একটি অংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শিমুলিয়া ফেরিঘাটের ব্যবহার করা হচ্ছে না।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সেপ্টেম্বরেই মাওয়া বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট অঞ্চল ও উজানভাটির কিছু এলাকায় বড় এলাকা জুড়ে ব্যাপকভাবে ভাঙন ধরে। এর আগের বছরে অর্থাৎ ২০১২ সালেও একই ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। ২০১৫ সালে কুমারভোগের বেশকিছু এলাকা জুড়ে একই ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়। যে কারণে বাববার ফেরিঘাট কিছুটা হলেও, স্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ বিষয়ে বিশ^ব্যাংকের বেশ আগ্রহ রয়েছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
প্রতিনিধিদল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। মতবিনিময়কালে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণ জানতে চাইতে পারে। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে সহায়ক হিসেবে কী হতে পারে। এ খাতে বিশ^ব্যাংক অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে বেশকিছু শর্ত জুড়ে দিতে পারে।
প্রতিনিধিদল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক সভা করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদফতরের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত প্রশমনে ট্রাস্ট কতটুকু কার্যকর ও কী ভূমিকা পালন করছে সে ব্যাপারে তাদের বেশ আগ্রহ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও প্রতিনিধিদল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সঙ্গে কথা বলবেন। দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে প্রতিনিধিদল কারিগরি সহায়তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভা করবেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এ প্রতিনিধিদল মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কী ধরনের অভিঘাত আসে তা জানতে চাইবে। এর পাশাপাশি কী ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া যায় মূলত সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন। তবে সব সভা হবে ভার্চুয়ালি।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: