সারাদেশ

করোনায় লন্ডভন্ড শিক্ষা খাত

বিশ^ব্যাপী মহামারি করোনা দেশের শিক্ষা খাত লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। দেশে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষাস্তরের ৫ কোটি শিক্ষার্থী পড়েছে বিপাকে। এক দশক ধরে পূর্বনির্ধারিত শিক্ষাসূচি পুরোটা এলোমেলো হয়ে গেছে। ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে এই পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় সরকার। এর আগে করোনা মহামারির মধ্যে এবার পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা নেয়নি সরকার। এইচএসসির ফল প্রকাশ শেষে উচ্চশিক্ষায় বিশ^^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। বিশ^^বিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট নেমে এসেছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। সেখানে সেশনজটে পড়েছেন বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাবলিক ও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনলাইনে পাঠদান কিছু বিশ^বিদ্যালয় শুরু করলেও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পুরো থমকে আছে। করোনার কারণে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা আটকে গেছে। যে কারণে চাকরির আবেদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।
বিলম্বে শুরু হয় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম। প্রতিবছর যথাযথভাবে সিলেবাস শেষ করেই নেওয়া হয় বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক সব শ্রেণিতে অটো পাসে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। বছর শেষে স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত আসে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে বিশেষ সমাবর্তন আয়োজন করার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এ বছর আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত কওমি মাদ্রাসা বাদে সব স্কুল-কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে আরও চার দফা বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। এর আগের ঘোষণায় ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা বলা হয়েছিল।
অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ
মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে। মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এবার এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া হবে না বলে গত ৭ অক্টোবর জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
ওইদিন মন্ত্রী বলেন, অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে এবারের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই ফল ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৪ নভেম্বরের পর সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে সতর্ক করে আসা সরকার আর ঝুঁকি নেয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও কওমি মাদ্রাসা চালু আছে। আর বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারিক ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও বিশ^বিদ্যালগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে সম্প্রতি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা এসেছে। যদিও ছাত্রাবাস বা হল বন্ধ থাকবে। এ নিয়েও অবশ্য তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সংসদ টেলিভিশনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। একইভাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস টেলিভিশন ও বেতারে সম্প্রচার করা হচ্ছে। তবে ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশই শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে। ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারায় তারা ক্লাস করতে পারেনি বলে বিশ^ব্যাংক ও ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে।
ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮৪টি দেশে পাবলিক বা এ ধরনের পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবক বলছেন, সিলেবাস অনুযায়ী স্কুলে পড়ানো হয়। এরপর প্রত্যেক শিক্ষার্থীই একাধিক প্রাইভেট-কোচিংয়ের দ্বারস্থ হয়। তারপরও ঠিকমতো প্রস্তুতি হয় না। অথচ এবার স্কুল বন্ধ, প্রাইভেট-কোচিং বন্ধ। তারপরও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আর স্কুল খোলার পর কোনো রকমে তাড়াহুড়ো করে সিলেবাস শেষ করা হলেও শিক্ষার্থীরা তা আত্মস্থ করতে পারবে না।
বছরজুড়েই থাকে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের নানা পরীক্ষা। কিন্তু করোনার কারণে সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। এমনিতেই সেশনজট কমানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। এই সাত কলেজ হচ্ছে ঢাকা কলেজ, ইডেন সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

টানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে না হলেও দিশেহারা হয়ে পড়েছে ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। বেতনের সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ হওয়ায় সঙ্কট আরও বেড়েছে। শিক্ষক বলে সমাজে একটা ভিন্ন অবস্থান থাকায় কারও কাছে হাতও পাততে পারছে না, আবার নিজেও চলতে পারছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক বেতনের বাইরে বেসরকারি শিক্ষকদের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল প্রাইভেট-টিউশনি। কিন্তু করোনার প্রভাবে সেই প্রাইভেটও বন্ধ। তবে রাজধানীতে দু-চারজন শিক্ষক যারা অনলাইনে পাঠদান করাচ্ছে তারা মূলত এমপিওভুক্ত বা ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষক। আর শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির বিষয়ে খুব বেশি সাড়া দিচ্ছে না অভিভাবকরা। সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার নন-এমপিও স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ১ লাখ ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। যাদের মধ্যে সম্প্রতি ২ হাজার ৬১৫ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ায় ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।
দেশে প্রায় ৫০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ৬ লাখ শিক্ষক কর্মরত। এসব প্রতিষ্ঠান ভাড়াবাড়িতে চলে। আর শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ নির্ভরশীল। টিউশন ফির টাকায়ই বাড়ি ভাড়া, নানা ধরনের বিল ও শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের সন্তানরা পড়ালেখা করায় তারা স্কুল বন্ধের সময়ে কেউ বেতন দিতে পারছে না, আবার কেউ দিতেও চাচ্ছে না। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এসব স্কুলের শিক্ষকরা। রাজধানী ও আশপাশের অনেক স্কুল মহামারির কারণে কঠিন সময় পার করছে। এসব স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষক তাদের গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেছেন এবং আর্থিক সমস্যায় দিন পার করছেন।

এ খাতে জড়িতরা বলছেন, গত কয়েক মাসে শতাধিক স্কুল বিক্রি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাভারের বাইপাইল এলাকার সৃজন সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজও তার মধ্যে একটি। এখানে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। বছিলা এলাকার রাজধানী আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ও রয়েছে বিক্রির তালিকায়। এর পরিচালক ফারুক হোসেন রিপন জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটিতে ১৭০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।
তিনি বলেন, বাড়ি ভাড়া ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার বকেয়া আমাকে পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, প্রায় প্রতিদিনই তারা খবর পান যে স্কুল বিক্রি করে দেবেন মালিকরা।
তিনি বলেন, যতদূর আমরা জানি, প্রায় ১০০টি স্কুল বিক্রি করার জন্য চেষ্টা চলছে। যদি সরকার কোনো সহায়তা না দেয় এবং করোনা সঙ্কট আরও বেশি দিন স্থায়ী হয়, তা হলে সারা দেশে আনুমানিক ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে।
করোনার মধ্যে করুণ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ৪ হাজার ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২১ হাজার শিক্ষক থাকলেও বাস্তবে মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক বেশি। এর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের ২৫০০ টাকা ও সহকারী শিক্ষকদের ২৩০০ টাকা ভাতা দেয় সরকার। তবে চলতি অর্থবছরে এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও বরাদ্দ থাকলেও কাজ শেষ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দেশে এখন বেসরকারি বিশ^^বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৫টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। বড় বিশ^^বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও সমস্যায় আছে ছোট ও মাঝারি বিশ^^বিদ্যালয়গুলো। প্রায় ৭৫টি বেসরকারি বিশ^^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ^^বিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, মাঝারি ও ছোট বিশ^^বিদ্যালয়গুলো বেশ সমস্যায় আছে। কারণ সেমিস্টার পরীক্ষার আগে সাধারণত শিক্ষার্থীরা ফি পরিশোধ করে। কিন্তু করোনার কারণে সেই ফি এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে অনেক বিশ^^বিদ্যালয়ই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে। কেউ হয়তো অর্ধেক বেতন দিয়েছে। আমরা এ জন্য সরকারের কাছে আর্থিক প্রণোদনা চেয়েছিলাম। কিন্তু সে বিষয়ে এখনও সাড়া মেলেনি।
এইচএসসি ফল প্রকাশ না করায় আটকে আছে বিশ^বিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। দেশের ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা ইউনিট না থাকলেও বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটির বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আগের মতো আলাদা পরীক্ষা হবে না। একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষা দিয়েই যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নিজ বিভাগের পাশাপাশি অন্য বিভাগভুক্ত বিষয়েও ভর্তি হওয়া যাবে। সেভাবেই বিষয়ভিত্তিক আসন রাখা হবে। যে ১৯টি বিশ^বিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে সেগুলো হলো জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ^বিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়। শনিবার জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার মান বণ্টন ও পরীক্ষা পদ্ধতিসহ এ সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১ ডিসেম্বর বিজ্ঞান, ব্যবসায় ও মানবিকÑ এই তিন ইউনিটে এসব বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছর সাতটি কৃষি বিশ^বিদ্যালয় প্রথমবারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়।
গত মার্চ মাসে বেসরকারি শিক্ষা নিয়োগ ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা থাকলেও আটকে যায়। ২০১৮ সালে সর্বশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
সরকারের অন্যতম বড় অর্জন বিনামূল্যে বই বিতরণ ও সারা দেশে একযোগে ১ জানুয়ারি বই উৎসব। শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের প্রথম দিনে পায় বইয়ের ঘ্রাণ। তবে এবার করোনার কারণে সে বই উৎসবও স্থগিত করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ১৮ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় প্রাথমিকে। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় পাস করা বাকি ২৫ হাজার প্রার্থী প্যানেল নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। করোনা পরিস্থিতির মাঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরেকটি বড় আঘাত হানে বন্যা। বছরের মাঝামাঝিতে দেশে বহমান বন্যায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও ডিগ্রিস্তরের ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: