আন্তর্জাতিক

এনআইডি সেবায় ব্যয় ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা!

Written by CrimeSearchBD

‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) দ্বিতীয় পর্যায়’ নামের আরও একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যার ব্যয়ের জন্য ১ হাজার ৯৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু একটি প্রকল্পের জন্য এত টাকা দাবির বিষয়টিকে সহজ চোখে দেখছেন না অনেকেই।
প্রকল্পের প্রস্তাবিত খরচের তথ্য তুলে ধরে ইসি সূত্র জানায়, ৯৭ জনের মূল বেতন ১২ কোটি ৩৫ লাখ, তাদের বাড়িভাড়া ৬ কোটি ৭১ লাখ, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ৪১ লাখ, উৎসব ভাতা ২ কোটি ৫ লাখ, চিকিৎসা ভাতা ৮৭ লাখ, শিক্ষা ভাতা ৫৮ লাখ, নববর্ষ ভাতা ২০ লাখ, যাতায়াত ভাতা ৯ লাখ, মোবাইল ভাতা ১২ লাখ, আবাসিক টেলিফোন নগদায়ন ভাতা ২৫ লাখ, টিফিন ভাতা ৬ লাখ, পোশাক ভাতা সাড়ে ৭ লাখ, ব্যাটম্যান ভাতা ৫ লাখ, ক্ষতিপূরণ ভাতা ৩ লাখ, অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা ৩ লাখ, অধিককাল ভাতা ৩৫ লাখ, অন্যান্য ভাতা ও ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার ৫০ লাখ ও সম্মানী ৩৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
প্রবাসে নিবন্ধন টিম ও প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত ব্যয় (সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ) ১০০ কোটি, স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় (সংখ্যা ৫ কোটি) ৭৫ কোটি, আপ্যায়ন খরচ ১ কোটি, পরিবহন সেবা (সংখ্যা ১১ লাখ) ১১ কোটি ৪৩ লাখ, আইন সংক্রান্ত খরচ ১ কোটি, মিটিং-সেমিনার-কনফারেন্স খরচ (সংখ্যা ৭৫) ২ কোটি ৫০ লাখ, ইউটিলিটি সেবা ২ কোটি, ইন্টারনেট-ফ্যাক্স-টেলেক্স ১ কোটি ৮০ লাখ, ডাক-কুরিয়ার ৫০ লাখ, টেলিফোন ৫০ লাখ, প্রচার ও বিজ্ঞাপন খরচ ধরা হয়েছে ৪ কোটি টাকা।
এ ছাড়া অডিও-ভিডিও-চলচ্চিত্র নির্মাণে (২০টি) ১ কোটি, আউটসোর্সিং সেবায় ৩৫৬ কোটি ৫১ লাখ, যানবাহন নিবন্ধন নবায়ন, ট্যাক্স-টোকেন, ফিটনেসে (১২টি) ৬০ লাখ, ব্যাংক চার্জ ৫০ লাখ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় (অফিস ভাড়া-বিদ্যুৎ বিল-ডকুমেন্ট স্ক্যানিং) ১৬ কোটি ৫৮ লাখ, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে (৫৯০০ জন) ৪ কোটি, বিদেশ ভ্রমণে (৬২ জন) ১ কোটি, অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে ব্যয় ২ কোটি, যানবাহন ও জেনারেটরের জন্য পেট্রোল, ওয়েল, ডিজেল, লুব্রিকেন্টে ৩ কোটি ৬৩ লাখ, যানবাহনের জন্য গ্যাস ৩৫ লাখ, স্মার্ট কার্ড ক্রয়, উৎপাদন, পারসোনালাইজেশন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রেরণ সংক্রান্ত ব্যয় ৫৫৪ কোটি, স্ট্যাম্প ও সিল খরচ ৫০ লাখ, অন্যান্য মনোহারি খরচ ১ কোটি, পরামর্শ সেবা ২৮ কোটি ৭০ লাখ, কম্পিউটার সামগ্রী ও কম্পিউটার কনজিউমেবলসে ১ কোটি, মোটরযান মেরামত (১২টি) ৬০ লাখ, আসবাবপত্র রক্ষণাবেক্ষণে ৩ লাখ, কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণে ২ কোটি, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণে ২৩ কোটি, অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণে খরচ ৫ লাখ ও মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
নির্বাচন ভবনের অতিরিক্ত হিসেবে এনআইডি সেবা, কলসেন্টার ও পরিচালনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রকল্পের জনবলের সংস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রকল্প কার্যালয় হিসেবে অনাবাসিক ভবন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবন) ভাড়া করা হবে। এনআইডি সেবা, কলসেন্টার পরিচালনার লক্ষ্যে অফিস ভবনগুলোর বিদ্যুৎ বিল ও অফিস ভাড়া বাবদ পাঁচ বছরে ১১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে ইসির তরফ থেকে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা প্রদানের জন্য ২০১১ সালে সরকারের অনুদান ও বিশ^ব্যাংকের ঋণে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেন্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিএ) তৃতীয় সংশোধন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইসি। প্রকল্পটি চলতি বছরের মার্চে শেষে হয়েছে। এতে করে এনআইডি সেবা বিঘ্নিত হতে পারে। তাই নতুন করে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটির অনুমোদন চেয়েছে ইসি কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামকে দুই সপ্তাহে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি। তবে প্রেক্ষাপট টেনে প্রকল্পের যৌক্তিকতায় ইসি বলছে, সুষ্ঠু নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ও গণতান্ত্রিক ধারা এগিয়ে নিতে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা ও তথ্যভান্ডার অপরিহার্য। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা-দেশের সহায়তায় ‘ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সহায়তা প্রদান প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নিবন্ধিত ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে এ তথ্যভান্ডার বা ডাটাবেজ নাগরিক শনাক্তকরণে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হিসেবে কাজ করছে। অন্য একটি প্রকল্প উপজেলা সার্ভার স্টেশন ফর ইলেক্টোরাল ডাটাবেজের মাধ্যমে উপজেলা-থানা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সার্ভার স্টেশন কাম নির্বাচন কার্যালয় স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রীর অনুমোদন পেলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: