রাজনীতি

ঈশ^রদীতে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

Written by CrimeSearchBD

পাবনার ঈশ^রদীতে আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই একাধিক নেতাকর্মীর মধ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে ঈশ^রদী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ঈশ^রদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনকে অভ্যর্থনা জানানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, পাবনা-৪ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার ঈশ^রদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। অভ্যর্থনায় সামনে থাকাকে কেন্দ্র করে ঈশ^রদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথার মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এর রেশ ধরে তাৎক্ষণিকভাবে পৌর আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার ছুড়ে একে অণ্যের সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হয় দলীয় নেতাকর্মীরা। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের থামাতে ব্যর্থ হন। পরে এই সংঘর্ষ দফায় দফায় অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন যুবলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন লাবু ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে রনি। তাদের দুজনকে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য আহতদের ঈশ^রদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতে ঈশ^রদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, আওয়ামী লীগ নেতা আবু কালাম, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মালিথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লবসহ ১০ জন আহত হয়। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঈশ^রদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু জানান, এটা নৌকার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। নির্বাচন উৎসবমুখর করার জন্য আমরা কাজ করছি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে নৌকার বিজয় লাভ করার মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।
ঈশ^রদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা জানান, নির্বাচন বানচালের জন্য পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টু ও তার লোকজন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মিন্টু নিজের ক্ষমতা জাহির করছে। এতে সাধারণ ভোটারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। দলের হাইকমান্ডের সামনে এ ঘটনায় দলীয় কঠিন নির্দেশনা দেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, পাবনা সদরের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপিসহ পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসএম কামাল হোসেন বলেন, দলের ভাবমূর্তি যারা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ঈশ^রদীর যুবলীগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করতে জেলা নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনার সঙ্গে ঈশ^রদী পৌর আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঈশ^রদী থানার ওসি সেখ নাসির উদ্দীন এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আহত উভয় পক্ষের কেউ থানাতেই আসেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: