সারাদেশ

আমানতের নয়া ফাঁদ এজেন্ট ব্যাংকিং

Written by CrimeSearchBD

ব্যাংক আমানতের নতুন কৌশল এজেন্ট ব্যাংকিং। নতুন এই সেবা গ্রামীণ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সঞ্চয়ের টাকা লুফে নিতে ব্যাংকের নতুন ফাঁদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা নির্দেশনা থাকলেও এ সেবার পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়লেও অনেক ব্যাংক এখন শুধু আমানত সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। প্রান্তিক মানুষের সেবা প্রদানে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে গুটিকয়েক ব্যাংক বিভিন্ন সূচকে ভালো করলেও অধিকাংশ ব্যাংকই এ সেবাকে নতুন ব্যবসা হিসেবে বেঁচে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ঝুঁকছেন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ ও রেমিট্যান্স প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা চালু থাকলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পুরোপুরি সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সেবার পরিধি আরও বাড়লে প্রান্তিক মানুষের সেবায় ব্যাংকগুলোকে আরও অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে জানান, দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা নিয়ে শুরু থেকেই আমি দ্বিমত পোষণ করে আসছি। অন্যান্য দেশের দিকে তাকান সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের খুব উপকারে আসছে তা নয়। এটা ব্যাংক ব্যবসায়ের একটা কৌশল মাত্র।
তিনি বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সেবা দেওয়া হয় তা নয়। ব্যাংকগুলোর গ্রামাঞ্চল থেকে অর্থ স্থানান্তরের একটা কৌশল মাত্র। এটা ভালো দিক নয়। শুধু কয়টা সেবা দিয়ে আমানত সংগ্রহ করা মোটেও সমীচীন নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এ বিষয়ে এখনই দ্রæত পদক্ষেপ নেওয়া।
সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ২৮টি তফসিলি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। যার মধ্যে ২৩টি ব্যাংক মাঠ পর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রত জনপ্রিয় হওয়ায় এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর একদিকে এজেন্ট ও আউটলেট সংখ্যা বেড়েছে অন্যদিকে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেড়েছে হিসাব খোলা ও আমানতের পরিমাণও। এ সেবার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে আমানত বাড়লেও বিপরীতে ঋণ বিতরণ কম করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীদের সেবা প্রদানে পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে গুটিকয়েক ব্যাংক বিভিন্ন প্রান্তিকে নানা সূচকে এগিয়ে থাকলেও অধিকাংশ ব্যাংকই এ সেবার মাধ্যমে ব্যাংকের নিজস্ব উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোকে জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যেখানে জনগণ ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তাদের দোরগোড়ায় এ সেবা পৌঁছে দিতেই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো শুধু আমানত সংগ্রহের কৌশল হিসেবে এ সেবাটি ব্যবহার করছে এ কথাটা সঠিক নয়। তবে ব্যাংকগুলো শুধু আমানত সংগ্রহ করেই যাবে তা ঠিক না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্ব সহকারে দেখবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল উদ্দেশ্যের বাইরে যেসব ব্যাংক কার্যক্রম চালাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, সারা দেশে ব্যাংকগুলোর এজেন্ট সংখ্যা রয়েছে ৮ হাজার ৭৬৪টি এবং এদের মাধ্যমে আউটলেট রয়েছে ১২ হাজার ৪৪৯টি। যার মধ্যে গ্রামাঞ্চলে রয়েছে ১০ হাজার ৮৯২টি। হিসাব খোলা হয়েছে ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯০টি। যার মধ্যে ৮৮ শতাংশ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ২ শতাংশ চলতি হিসাব। এদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ হিসাবই নারীদের। মোট আমানতের পরিমাণ ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। যার মধ্যে গ্রামাঞ্চলের আউটলেটের মাধ্যমে আমানত বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। এসব আমানতের মধ্যে পুরুষের ৭১ শতাংশ ও নারীর ৩৪ শতাংশ রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে এ সেবার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৭২০ কোটি টাকা। যার মধ্যে গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরা ঋণ পেয়েছে ৪৮৯ কোটি টাকা। পুরুষ গ্রাহকরা ৭১ শতাংশ ঋণ পেয়েছেন কিন্তু নারী গ্রাহকরা পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীদের ঋণ বিতরণ কম করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২৩টি ব্যাংকের মধ্যে ৯ ব্যাংক আমানতের বিপরীতে ঋণ প্রদান করলেও ১৪টি ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণ শূন্য। ব্যাংকগুলো হলোÑ রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অগ্রণী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ বিতরণ মাত্র ১৪৯ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ার আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছে ২৮০ কোটি টাকা। ডাচ্-ব্যাংলা ব্যাংকের ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকার আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ৯০৯ কোটি টাকা। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ৮০৪ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ৮৬০ কোটি বিপরীতে ঋণ প্রদান মাত্র ২৪৬ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মতে জানা যায়, ব্যাংকগুলোর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কিত অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ হতে প্রদান করা হয়। এর আওতায় ব্যাংক তার নিজস্ব নীতিমালার আলোকে এজেন্ট নিয়োগ করে। এ সেবার কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টগুলোর তালিকা ও সম্পাদিত চুক্তির কপি প্রাসঙ্গিক দলিলাদিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গ্রিন ব্যাংকিং ও সিএসআর বিভাগে প্রেরণ করতে হয়।
নির্দেশনায় দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যেক এজেন্টের একটি চলতি হিসাব রাখতে হয়। এ হিসাবের মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্থিতি হবে ১০ লাখ টাকা। গ্রাহক পর্যায়ে প্রতিক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা নগদ জমা অথবা উত্তোলন করা যাবে। একই সঙ্গে দৈনিক সর্বোচ্চ দুবার নগদ উত্তোলন ও জমা করা যাবে। তবে অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এ সীমা প্রযোজ্য হবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পল্লী এলাকায় পরিচালনা করতে হবে। শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকগুলো কেবল এজেন্ট পর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে পারবে এবং এজেন্ট পর্যায়ে গ্রাহকদের লেনদেনকৃত অর্থ বীমার আওতায় আনতে হবে।
বিশে^র প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ব্রাজিলে। আর বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ২০১৪ সালে। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক এশিয়া পাইলট প্রকল্প হিসেবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে।ব্যাংক আমানতের নতুন কৌশল এজেন্ট ব্যাংকিং। নতুন এই সেবা গ্রামীণ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সঞ্চয়ের টাকা লুফে নিতে ব্যাংকের নতুন ফাঁদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা নির্দেশনা থাকলেও এ সেবার পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়লেও অনেক ব্যাংক এখন শুধু আমানত সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। প্রান্তিক মানুষের সেবা প্রদানে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে গুটিকয়েক ব্যাংক বিভিন্ন সূচকে ভালো করলেও অধিকাংশ ব্যাংকই এ সেবাকে নতুন ব্যবসা হিসেবে বেঁচে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ঝুঁকছেন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ ও রেমিট্যান্স প্রদানসহ বিভিন্ন সেবা চালু থাকলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পুরোপুরি সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সেবার পরিধি আরও বাড়লে প্রান্তিক মানুষের সেবায় ব্যাংকগুলোকে আরও অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে জানান, দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা নিয়ে শুরু থেকেই আমি দ্বিমত পোষণ করে আসছি। অন্যান্য দেশের দিকে তাকান সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের খুব উপকারে আসছে তা নয়। এটা ব্যাংক ব্যবসায়ের একটা কৌশল মাত্র।
তিনি বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সেবা দেওয়া হয় তা নয়। ব্যাংকগুলোর গ্রামাঞ্চল থেকে অর্থ স্থানান্তরের একটা কৌশল মাত্র। এটা ভালো দিক নয়। শুধু কয়টা সেবা দিয়ে আমানত সংগ্রহ করা মোটেও সমীচীন নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এ বিষয়ে এখনই দ্রæত পদক্ষেপ নেওয়া।
সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ২৮টি তফসিলি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। যার মধ্যে ২৩টি ব্যাংক মাঠ পর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রত জনপ্রিয় হওয়ায় এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর একদিকে এজেন্ট ও আউটলেট সংখ্যা বেড়েছে অন্যদিকে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেড়েছে হিসাব খোলা ও আমানতের পরিমাণও। এ সেবার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে আমানত বাড়লেও বিপরীতে ঋণ বিতরণ কম করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীদের সেবা প্রদানে পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে গুটিকয়েক ব্যাংক বিভিন্ন প্রান্তিকে নানা সূচকে এগিয়ে থাকলেও অধিকাংশ ব্যাংকই এ সেবার মাধ্যমে ব্যাংকের নিজস্ব উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোকে জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যেখানে জনগণ ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তাদের দোরগোড়ায় এ সেবা পৌঁছে দিতেই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো শুধু আমানত সংগ্রহের কৌশল হিসেবে এ সেবাটি ব্যবহার করছে এ কথাটা সঠিক নয়। তবে ব্যাংকগুলো শুধু আমানত সংগ্রহ করেই যাবে তা ঠিক না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্ব সহকারে দেখবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল উদ্দেশ্যের বাইরে যেসব ব্যাংক কার্যক্রম চালাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, সারা দেশে ব্যাংকগুলোর এজেন্ট সংখ্যা রয়েছে ৮ হাজার ৭৬৪টি এবং এদের মাধ্যমে আউটলেট রয়েছে ১২ হাজার ৪৪৯টি। যার মধ্যে গ্রামাঞ্চলে রয়েছে ১০ হাজার ৮৯২টি। হিসাব খোলা হয়েছে ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯০টি। যার মধ্যে ৮৮ শতাংশ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ২ শতাংশ চলতি হিসাব। এদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ হিসাবই নারীদের। মোট আমানতের পরিমাণ ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। যার মধ্যে গ্রামাঞ্চলের আউটলেটের মাধ্যমে আমানত বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। এসব আমানতের মধ্যে পুরুষের ৭১ শতাংশ ও নারীর ৩৪ শতাংশ রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে এ সেবার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৭২০ কোটি টাকা। যার মধ্যে গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরা ঋণ পেয়েছে ৪৮৯ কোটি টাকা। পুরুষ গ্রাহকরা ৭১ শতাংশ ঋণ পেয়েছেন কিন্তু নারী গ্রাহকরা পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারীদের ঋণ বিতরণ কম করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২৩টি ব্যাংকের মধ্যে ৯ ব্যাংক আমানতের বিপরীতে ঋণ প্রদান করলেও ১৪টি ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণ শূন্য। ব্যাংকগুলো হলোÑ রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অগ্রণী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ বিতরণ মাত্র ১৪৯ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ার আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছে ২৮০ কোটি টাকা। ডাচ্-ব্যাংলা ব্যাংকের ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকার আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ৯০৯ কোটি টাকা। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ৮০৪ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ৮৬০ কোটি বিপরীতে ঋণ প্রদান মাত্র ২৪৬ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মতে জানা যায়, ব্যাংকগুলোর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কিত অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ হতে প্রদান করা হয়। এর আওতায় ব্যাংক তার নিজস্ব নীতিমালার আলোকে এজেন্ট নিয়োগ করে। এ সেবার কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টগুলোর তালিকা ও সম্পাদিত চুক্তির কপি প্রাসঙ্গিক দলিলাদিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গ্রিন ব্যাংকিং ও সিএসআর বিভাগে প্রেরণ করতে হয়।
নির্দেশনায় দেখা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যেক এজেন্টের একটি চলতি হিসাব রাখতে হয়। এ হিসাবের মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্থিতি হবে ১০ লাখ টাকা। গ্রাহক পর্যায়ে প্রতিক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা নগদ জমা অথবা উত্তোলন করা যাবে। একই সঙ্গে দৈনিক সর্বোচ্চ দুবার নগদ উত্তোলন ও জমা করা যাবে। তবে অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এ সীমা প্রযোজ্য হবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পল্লী এলাকায় পরিচালনা করতে হবে। শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকগুলো কেবল এজেন্ট পর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে পারবে এবং এজেন্ট পর্যায়ে গ্রাহকদের লেনদেনকৃত অর্থ বীমার আওতায় আনতে হবে।
বিশে^র প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ব্রাজিলে। আর বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ২০১৪ সালে। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক এশিয়া পাইলট প্রকল্প হিসেবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: