জাতীয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

Written by CrimeSearchBD

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনি প্রচারণা এখন তুঙ্গে উঠেছে। নগরজুড়ে সর্বত্র প্রচার-প্রচারণা চলছে উৎসবের আবহে। গণসংযোগ, পথসভা, সমাবেশ কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার গরজ কেউ অনুভব করছেন না। মিছিল সমাবেশে মানুষের ঢল নামছে। সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। ৯০ ভাগ মানুষের মুখে থাকছে না মাস্ক। মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীর মুখে মাস্ক দেখা গেলেও তাদের গণসংযোগ বা সমাবেশে উপস্থিত লোকজন থাকছেন মাস্কবিহীন। করোনা শনাক্তের হার দিন দিন বেড়ে চলছে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। আবার নির্বাচনি আচরণবিধিও লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিদিনই। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে উভয়ের জন্য সমান সুযোগ দাবি করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে, গাড়ি ভাঙচুর করছে। মেয়রপ্রার্থী নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন ৩০-৪০টি গাড়িবহর নিয়ে। বিএনপি দুটি গাড়ি নিয়েও প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছে না। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলতে তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, নালিশ করাটা এখন বিএনপির স্বভাবে পরিণত হয়েছে। তাদের কোনো সভা সমাবেশে কোথাও বাধা দেওয়া হয়নি। গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও সত্য নয়। রিটার্নিং অফিসার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, প্রাপ্ত অভিযোগ ও গণমাধ্যমের সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করছি। মনিটরিং কাজে ১৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। আচরণবিধি এবং ১২ দফা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রচার-প্রচারণায় স্বাস্থ্যবিধি যেভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে তাতে করে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. নাসির উদ্দীন মাহমুদ। তিনি সময়ের আলোকে জানান, যেভাবে এখন প্রচার-প্রচারণা চলছে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। জনসমাগম এড়িয়ে ভার্চুয়াল প্রচারণা চালাতে প্রার্থীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী জানান, নির্বাচনি প্রচারণায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তোয়াক্কা কেউ করছে না। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। মেয়রপ্রার্থীরা এ বিষয়ে তাদের কর্মীদের সতর্ক করতে পারেন। যেভাবে এখন চলছে তা খুবই উদ্বেগজনক।
সোমবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়রপ্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা ঘাম ঝরানো প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। সকালে নগরীর হালিশহরে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজের স্মরণসভায় যোগ দেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় নৌকার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নেতাকর্মীরা। সভা শেষে হালিশহর এলাকায় গণসংযোগ করেন রেজাউল করিম চৌধুরী। নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিলি করেন লিফলেট। বিকালে চান্দগাঁও, মোহরা এবং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন সকালে নগরীর বহদ্দারহাট, চাঁন্দগাঁও, মোহরা এলাকায় এবং বিকালে নাজিরপাড়া, বিবিরহাট, মোহাম্মদপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। ব্যালটের মাধ্যমে সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির জবাব দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচিত হলে নগরীর উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শাহাদাত।

About the author

CrimeSearchBD

%d bloggers like this: